Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দ্বারকার দূষণ-রোধ প্রকল্পে বাধা বিজেপির, ক্ষুব্ধ সাধুরা, উত্তেজনা তারাপীঠে

দ্বারকার দূষণ-রোধ প্রকল্পে বাধা বিজেপির, ক্ষুব্ধ সাধুরা, উত্তেজনা তারাপীঠে
  • ৭ মার্চ, ২০২৫ ১১:০৩
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: উন্নয়নেও রাজনীতি গেরুয়া শিবিরের! তারাপীঠ মহাশ্মশানে সরকারি প্রকল্পের কাজে বাধা দিল বিজেপি। তাতে মুখতোড় জবাবও মিলেছে। শ্মশানে রাজনীতি করা যাবে না বলে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন সাধু-সন্ন্যাসীরা। 

Advertisement

বৃহস্পতিবার এ নিয়ে চরম উত্তেজনা ছড়ায় তীর্থক্ষেত্রে। মাটি ফেলে প্রকল্পের খনন কাজ বুজিয়ে দেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। বাধা দিলে পুলিসের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। পুলিস বিজেপির জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা সহ কয়েকজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে অবশ্য আটকদের ব্যক্তিগত বণ্ডে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিজেপির এই রাজনীতিকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন সাংসদ শতাব্দী রায়। রামপুরহাটের মহকুমা শাসক তথা টিআরডিএ সিইও বলেন, ‘পিএইচইর পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ এসেছিল। সেটি পাঠিয়ে দেওয়া হয় পুলিসের কাছে।’
দ্বারকা নদের দূষণ রোধে তরল বর্জ্য পরিশোধনে প্রায় ৩৪ কোটি টাকা ব্যায়ে সুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট গড়ে তোলার কাজ শুরু করে পিএইচই। তারাপীঠজুড়ে একাধিক গর্ত করে চৌবাচ্চা করা হয়। এগুলিতে লজ, হোটেলের নোংরা জল এসে জমা হবে। পরে পরিশোধনের পর সেই জল দ্বারকায় ফেলা হবে। সেই মতো শ্মশানেও চৌবাচ্চা নির্মাণে গর্ত করা হচ্ছিল। বিজেপির অভিযোগ, যেখানে গর্ত করা হচ্ছে, সেটি বৈষ্ণবধর্মের মানুষের সমাধিস্থল। প্রতিবাদে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি গর্ত বুজিয়ে দেয় তারা। যদিও পিএইচইর পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোনও সমাধি নষ্ট করা হচ্ছে না। দু’দিন আগে সেই মাটি তুলে ফের কাজ শুরু করে পিএইচই।  এদিন বিজেপি মিছিল করে শ্মশানের দিকে আসতে শুরু করে। অন্যদিকে, তৃণমূলের ব্লক কার্যালয়ের সামনের রাস্তার একদিকে দাঁড়িয়ে পড়েন শ’পাঁচকে তৃণমূল নেতা-কর্মী। তা নিয়ে সাময়িক উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিস থাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আন্দোলনকারীরা প্রকল্পের স্থলে ফের গর্ত বুজিয়ে দিতে থাকেন।  ধ্রুব সাহা বলেন, ‘কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের করা একটি রিট পিটিশনে বলা হয়েছে, শ্মশান বহির্ভূত কাজ করা যাবে না। তারপরও লাশ তুলে ফেলে কাজ চলছে।  সনাতনীদের উপর আক্রমণ মানব না।’ তাঁর অভিযোগ,  টিআরডিএ’র ভাইস চেয়ারম্যান জায়গা দখল করে লজ করেছে। লজ ভেঙে প্রকল্প সেখানে করা হোক। পাল্টা দিয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান তথা তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সুকুমার মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘মিথ্যা কথা বলে বাজার গরম করতে চাইছে। এর আগে রাস্তার ধারের দোকানদাররা শ্মশানের ২০ ফুট দখল করে রয়েছে। সেই দোকানগুলোকে পিছিয়ে মন্দির যাওয়ার রাস্তা চওড়া করার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। সেটার জন্য বিজেপি মামলা করেছে। বর্তমানে দোকানগুলি শ্মশানের দিকে পিছিয়ে আসছে। তাতে সনাতনীদের উপর আঘাত লাগছে না। আসলে বিজেপি সেই দোকানদারদের কাছ থেকে টাকা খেয়ে শ্মশানের দখল নিতে চাইছে।’ 
তৃণমূল-বিজেপির এই চাপানউতোরের মাঝে আন্দোলনে নামেন  শ্মশানের সাধু-সন্ন্যাসীরা। ‘শ্মশানে রাজনীতি করা চলবে না’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। সোমেননাথ অঘোরী বলেন, ‘পরিবেশ আদালতের নির্দেশে দ্বারকাকে দূষণমুক্ত করতে উদ্যোগী হয়েছে প্রশাসন। আমরা অভিনন্দন জানাচ্ছি। এই জলে স্নান করা যাচ্ছে না। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দূষণমুক্ত হবে দ্বারকা। পবিত্র শ্মশানের উপর দিয়েও আর নোংরা জল বয়ে যাবে না। এই কাজে বাধা দিলে পাল্টা আমরাও পথে নামতে বাধ্য হব।’ সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, বৈষ্ণবদের সমাধি নিয়ে এত চিন্তা ওদের! বৈষ্ণবদের উন্নয়নে কী করেছে ওরা? সেই হিসেবটা আগে দিক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ