সংবাদদাতা, রামপুরহাট: এবার কৌশিকী অমাবস্যায় পর্যটকদের তিনদিনের প্যাকেজে রুম ভাড়া নিতে বাধ্য করতে পারবে না হোটেলগুলি। চাইলে একদিন বা দু’দিনের জন্য রুম ভাড়া নিতে পারবেন। রবিবার রামপুরহাট এসডিও অফিসে কৌশিকী অমাবস্যার প্রস্তুতি বৈঠকে এব্যাপারে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জেলা প্রশাসনের কর্তারা। কোনও পর্যটক একদিন থাকলে তিনদিনের প্যাকেজ অনুযায়ী ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠলে সেই হোটেলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। চারচাকা গাড়ি নিয়ে এলে কৌশিকী অমাবস্যার আগের দিন অর্থাৎ ২১ আগস্ট রাত ১টার মধ্যে তারাপীঠে ঢুকতে হবে। যানজট এড়াতে ওই সময়ের পর আর কোনও গাড়ি ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রশাসনিক কর্তারা।
তারাপীঠে সবচেয়ে বড় উৎসব কৌশিকী অমাবস্যা। এই উৎসবে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়। কথিত আছে, দেবী তারার অপর নাম কৌশিকী। শুম্ভ নিশুম্ভকে বধ করতে দেবী নিজ দেহকোষ থেকে বের হয়ে আর এক দেবীর মূর্তিতে আবির্ভূতা হয়েছিলেন। ১২৭৪ বঙ্গাব্দে কৌশিকী অমাবস্যার দিন তারাপীঠ মহাশ্মশানে শ্বেতশিমুল গাছের তলায় বামাখ্যাপা সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। তাই বিশেষ এই তিথিতে পুণ্যলাভের আশায় প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগম হয়। অভিযোগ, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রুম ভাড়া অস্বাভাবিক হারে বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তিনদিনের প্যাকেজ চালু করে হোটেলগুলি। এক বা দু’দিনের জন্য এলেও তাঁদের তিনদিনের ভাড়া দিতে বাধ্য করা হচ্ছিল। প্যাকেজ সিস্টেম চলবে না বলে এদিন বৈঠকে উপস্থিত হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের কর্তাদের সাফ জানান জেলাশাসক বিধান রায়। কেউ একদিনের জন্য চাইলে তাঁকেও থাকতে দিতে হবে। ভাড়াও হতে হবে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে। যদিও হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুনীল গিরি জানান, কোনও প্যাকেজ সিস্টেম করা হয় না। পাশাপাশি এবারও হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে হেল্প ডেস্ক চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও হোটেলের রুম খালি আছে কিনা তা পুণ্যার্থীরা জেনে নিতে পারবেন। সেইসঙ্গে একটি নির্দিষ্ট ফোন নম্বরও থাকবে। তাতে সরাসরি অভিযোগ জানানো যাবে। বৈঠকে উপস্থিত টিআরডিএর চেয়ারম্যান আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় পুণ্যার্থীদের অসুবিধার কথা মাথায় রেখে সুষ্ঠুভাবে যাতে উৎসব সম্পন্ন করা যায় সেই বিষয়টি তোলেন। জেলাশাসক বলেন, যানজট এড়াতে আগের দিন অর্থাৎ ২১আগস্টের রাত ১টার মধ্যেই গাড়ি ঢুকে যেতে হবে। তারপর গাড়ি আটকে দেওয়া হবে। পরে ভিতরে বিভিন্ন হোটেলের পার্কিং ফাঁকা থাকলে কিছু গাড়ি ঢুকতে দেওয়া হবে। যদিও উপস্থিত টিআরডিএর ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার মুখোপাধ্যায় জানান, গাড়ি আটকে দেওয়ার জায়গা থেকে তারাপীঠের দূরত্ব ন’কিলোমিটার। সেখান থেকে হেঁটে পুণ্যার্থীদের আসতে খুবই অসুবিধা হয়। তিনি বিষয়টি দেখার জন্য বলেন। যদিও এনিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি প্রশাসনিক কর্তারা। জানা গিয়েছে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জাতীয় সড়কের ধারে, চিলার মাঠ, ফুলিডাঙা বাসস্ট্যান্ড মিলিয়ে ন’টি পার্কিংয়ের জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে।
পিএইচইকে আড়াই লক্ষ জলের পাউচের ব্যবস্থা রাখার জন্য বলা হয়েছে। যার অর্ধেক থাকবে রামপুরহাট স্টেশন চত্বরে। কয়েক বছর ধরে রেল এইসময় হাওড়া ও রামপুরহাটের মাঝে একটি স্পেশাল ট্রেন চালায়। এবারও যাতে সেই ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হয় সেব্যাপারে অনুরোধ জানানো হবে।