


অমিত চৌধুরী, তারকেশ্বর: গত পাঁচ বছরে বদলে গিয়েছে তারকেশ্বর। স্টেশন থেকে মন্দিরে যাওয়ার রাস্তায় আগের মতো আর খানাখন্দ নেই। তারকেশ্বর মন্দিরের দুধপুকুর সংস্কার করা হয়েছে। রাজবাড়ি মাঠের পার্কিং লট পাকা করা হয়েছে। হাসপাতালেও বেড়েছে শয্যাসংখ্যা। গ্রামের দিকে প্রতিটি রাস্তাই এখন পাকা। নিকাশি ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে ৬০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ চলছে। এই কাজ হয়ে গেলে জল জমার সমস্যা আর থাকবে না তারকেশ্বরে। একদমে কথাগুলি বললেন জ্যোতিশংকর তা। এই ভদ্রলোক এই এলাকারই বাসিন্দা। তাঁর সঙ্গে আলাপ স্থানীয় চায়ের দোকানে। তাঁর কথায়, কর্মসূত্রে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরতে হয়েছে, তবে এই রাজ্যের মতো শান্তির পরিবেশ আর কোথাও নেই। তিনি যে আপাদমস্তক উন্নয়নের কথা শোনালেন, সেই কথারই অনুরণন শোনা গেল তারকেশ্বরের তৃণমূল প্রার্থী রামেন্দু সিংহ রায়ের গলায়।
প্রার্থী বলেন, শুধু দুধপুকুর সংস্কার করা হয়নি, পুকুরের পাশে ছাউনি দেওয়া রাস্তা তৈরি হয়েছে। মন্দিরের আশপাশে একাধিক ঐতিহ্যবাহী পুকুরও সংস্কার করা হয়েছে। মন্দিরে এলাকায় পেভার ব্লকের রাস্তা, পানীয় জল ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারকেশ্বর উন্নয়ন পর্ষদের টাকায় অস্থায়ী দোকানগুলিকে স্থায়ী করা হয়েছে। মানুষ উন্নয়নের নিরিখে ভোট দেবেন এবার। রামেন্দু সিংহ রায় বলেন, প্রতিটি বাড়িতে যাচ্ছি, মানুষ দু’হাত ভরে আশীর্বাদ করছেন আমাকে। এবারের ভোটে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল প্রার্থীর কথায়, এখনও অনেক কাজ বাকি আছে। তারকেশ্বরে ব্লাড ব্যাংক তৈরি করা দরকার। দরকার অডিটোরিয়ামও। আগামী দিনে সেইসব পরিকল্পনাও বাস্তবায়িত করা হবে।
তারকেশ্বরের শান্তি পরিবেশকে অশান্ত করতে মাঠে নেমেছে বিজেপি। ভোটের সময় ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে ভাগ করে ভোট বাক্স ভরতি করতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে গেরুয়া শিবির। গত বিধানসভা নির্বাচনের পর পারাম্বুয়ার সাহা বাজারে এক তৃণমূল কর্মীকে পিটিয়ে খুন করেছিল বিজেপি কর্মীরা। আর ফল বেরনোর পরের দিন অন্নপূর্ণা পুজোর মিটিং করছিলেন জনাকয়েক তৃণমূল কর্মী। হঠাৎ তাঁদের উপর হামলা চালায় ৩০-৩৫ জন বিজেপি কর্মী। তারা বাঁশ, লাঠি, শাবল নিয়ে আক্রমণ চালিয়েছিল। ওই ঘটনায় ১২ জন তৃণমূল কর্মী জখম হন। সেই স্মৃতি এখনও তাজা এলাকাবাসীর। এবার এখানে বিজেপি টিকিট দিয়েছে সন্তু পানকে। তিনি তারকেশ্বর মন্দিরের করিডর তৈরি সহ একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সিপিএম প্রার্থী আদেশ খামরুই ধর্মকে ভোটের ময়দানে আনতে নারাজ। তিনি কৃষকের ফসলের ন্যায্য দাম ও কর্মসংস্থানের দাবিকে সামনে এনেই প্রচার চালিয়েছেন তারকেশ্বরে।
প্রসঙ্গত, তারকেশ্বর পুরসভা ও ১৫টি পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত এই বিধানসভা। ২০১০ সালে বাম আমলে তারকেশ্বর পুরসভা নির্বাচনে জয়লাভ করেছিল তৃণমূল। তারপর পার্শ্ববর্তী পঞ্চায়েতগুলিতেও শক্তি বাড়ায় তৃণমূল। শেষমেশ ২০১১ ও ২০১৬ সালে পরপর দু’বার এই কেন্দ্র থেকে ঘাসফুলের টিকিটে বিধানসভায় নির্বাচিত হন রচপাল সিং। ২০২১ সালে প্রথম বিধায়ক হন রামেন্দু সিংহরায়। তাঁর আমলে উন্নয়নের ধারায় সেজে উঠেছে শিবতীর্থ। আর এই সাজই এগিয়ে রাখছে তৃণমূলকে।