সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: সোমবার লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর আগমনে জনসমুদ্রের আকার নিল তারকেশ্বর। রবিবার সন্ধ্যা থেকেই পুণ্যার্থীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে এখানে। রবিবার রাত ১২টা থেকেই শিব ঠাকুরের মাথায় জল ঢালার কাজ শুরু হয়েছে। প্রায় সারারাতই ট্রেন চলেছে। পুণ্যার্থীদের চাপ সামলাতে গিয়ে দিশাহারা অবস্থা হয়েছে প্রশাসনের। তবে তীর্থযাত্রীদের লাইন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে পুলিস যেভাবে দিকনির্দেশ করেছে, তাতে অনেকেই মন্দিরে প্রবেশ করতে পারেননি। অনেককেই দেখা গিয়েছে, রাজবাড়ির প্রবেশদ্বারের সামনে থাকা শিবের মূর্তিতে জল ঢালতে। ভিড়ের চাপে সামনে আসতে না পারায় কেউ কেউ দূর থেকেই জল ভর্তি ঘট ছুড়ে মারেন সেখানে।
তারকেশ্বরের শ্রাবণী মেলা এবছর ধনেখালির বেশ কয়েকটি অংশে ছড়িয়ে পড়েছে। এদিন তারকেশ্বরের চারদিকে পুণ্যার্থীদের মাথা ছাড়া আর কিছুই দেখা যায়নি। তারকেশ্বর হাইস্কুলে প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। পুণ্যার্থীরা কেউ অসুস্থ হলে ভিড় ঠেলে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই দুষ্কর। তাই মন্দিরের কাছে এই স্কুলেই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র খোলা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। এদিন বহু তীর্থযাত্রীকে সেখানে চিকিৎসা করাতেও দেখা গিয়েছে। এদিকে, ভিড়ের সুযোগে চুরি, হাতসাফাইয়ের ঘটনা বেড়ে গিয়েছে। বহু পুণ্যার্থীদের মোবাইল ফোন, টাকা সহ অন্যান্য সামগ্রী চুরি গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। রেলের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংবাদপত্রের এজেন্টরা। এদিন ভোরে তারকেশ্বর স্টেশনে বিভিন্ন সংবাদপত্র এসে পৌঁছলে তা নিয়ে আসতে বাধা দেয় রেল পুলিস। ফলে এদিন সকালে সংবাদপত্র বিক্রিতে ব্যাঘাত ঘটে। তীর্থযাত্রীদের ভিড়ে চাপে তারকেশ্বরের জনজীবন কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে।
শ্রাবণী মেলাকে ‘নির্মল মেলা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবহারের উপর সম্পূর্ণ বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যে ব্যবসায়ীরা ওই জাতীয় পলিথিন ব্যবহার করছেন, তাঁদের জরিমানা করা হচ্ছে। পিএইচই দপ্তর একাধিক স্টল বানিয়ে পুণ্যার্থীদের তৃষ্ণা মিটিয়েছে। অসুস্থ পুণ্যার্থীদের জন্য বাইক অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নিজস্ব চিত্র