নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মাঠে কাতরাচ্ছেন তারক হেমব্রম। চোট গুরুতর বুঝে সঙ্গে সঙ্গে মেডিক্যাল টিমকে ডেকে পাঠালেন রেফারি। তারপর? ফুটবলারটির ডান পায়ে সাপোর্ট হিসাবে দুটো ছাতা বেঁধে দিলেন কেউ। বারাকপুরের বিভূতিভূষণ স্টেডিয়ামে মোহন বাগান বনাম রেলওয়ে এফসি ম্যাচ চলাকালীন এই ছবি মুহূর্তে ভাইরাল। সমালোচনায় উত্তাল ময়দান। আইএফএ’র পরিকাঠামো নিয়েও একরাশ প্রশ্ন। শেষ পর্যন্ত তারকের অবস্থা দেখে মোহন বাগান বেঞ্চ থেকে ছুটে আসেন চিকিৎসক কিংশুক ভুঁইয়া। তিনিই প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। মাঠ থেকেই অ্যাম্বুল্যান্সে চাপিয়ে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় তারককে। রাতে হাসপাতালে ছুটে যান আইএফএ কর্তারা। এমআরআই রিপোর্টের অপেক্ষায় সবাই। সচিব অনির্বাণ দত্তের মন্তব্য, ‘খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। বঙ্গ ফুটবল সংস্থা তারককে সবরকম সহায়তা করতে প্রস্তুত।’ অন্যদিকে রেলওয়ে এফসির ডাগ-আউটে ফিজিও অমিত বিশ্বাস থাকলেও কোনও চিকিৎসক ছিলেন না। দলের সঙ্গে বারাকপুরে ছিলেন প্রাক্তন অ্যাথলিট সোমা বিশ্বাস। সোমা জানান, ‘ডাক্তার রাখার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’ উল্লেখ্য, ঘরোয়া লিগের আগে ক্লাব প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসে আইএফএ। ম্যাচ চলাকালীন ডাগ-আউটে ডাক্তার বা ফিজিও রাখাও বাধ্যতামূলক। কিন্তু খরচ বাঁচাতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্রেফ ফিজিওর উপর ভরসা রাখে টিম ম্যানেজমেন্ট। তারকের ঘটনার পর টনক কি নড়বে? প্রখ্যাত চিকিৎসক অভিজিৎ ব্যানার্জি এমন ছবি দেখেই আঁতকে উঠেলেন। তাঁর মন্তব্য, ‘পুরো বিষয়টাই অবৈজ্ঞানিক। আধুনিক যুগে এমনটা ভাবাই যায় না। ফুটবলারটির পায়ের বড় ক্ষতি হতেই পারত। চিকিৎসা পদ্ধতি এখন অনেক উন্নত। দ্রুত স্টেডিয়ামের আশেপাশের কোনও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল না কেন? ছাতা দিয়ে ঠেকনা দেওয়ার পদ্ধতি একেবারেই অনৈতিক। কর্তৃপক্ষ নিশ্চই সতর্ক হবেন।’



