Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাহাড়কে টেক্কা দেবে তরাইয়ের তরিবাড়ি, গজলডোবা, লালপুল

তালিকায় তরিবাড়ি থেকে গজলডোবা, লালপুল থেকে নেপাল সীমান্ত

পাহাড়কে টেক্কা দেবে তরাইয়ের তরিবাড়ি, গজলডোবা, লালপুল
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: কাশ্মীর উত্তেজনা প্রবণ। প্রাকৃতি দুর্যোগে বিপর্যস্ত উত্তরাখণ্ড। তাই এবার পুজোয় দার্জিলিং, কালিম্পং ও সিকিম পাহাড়কে টেক্কা দেবে তরাইয়ের গ্রামীণ পর্যটন কেন্দ্রগুলি। তালিকায় তরিবাড়ি থেকে গজলডোবা, লালপুল থেকে নেপাল সীমান্ত। কোথাও নদী বেষ্টিত, জঙ্গল ঘেরা নিরিবিলি গ্রামের অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করবেন পর্যটকরা। আবার কোথাও মিলবে অরণ্যের স্বাদ। সেইসঙ্গে পুজোর মরশুমে প্রাতঃরাশ ও মধ্যাহ্নভোজের থালিতেও থাকছে বিশেষ মেনু। চাউমিন, মোমো থেকে ভাত, ডাল, সবজি, ফ্রায়েডরাইস, বিরিয়ানি ,চিকেন এবং মটনকষা থাকছে। সেইসঙ্গে মিলবে তিস্তার ‘রুপোলি ফসল’ বোরলি মাছ ও কাঁকড়ার নানা পদ। 

Advertisement

রাজ্য সরকারের ইকো ট্যুরিজম বিভাগের চেয়ারম্যান রাজ বসু বলেন, রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তের মতো উত্তরবঙ্গেও গ্রামীণ পর্যটন শিল্পের বিকাশ হয়েছে। সেগুলির প্রসার ঘটাতে সরকারিভাবে আরও প্রচার, মার্কেটিং, গ্রামবাসীদের প্রশিক্ষণের দরকার আছে। তা হলেও এবার পুজোতে তরিবাড়ি, গজলডোবা সহ বেশকিছু গ্রামীণ পর্যটন কেন্দ্র পর্যটকদের ঢল নামবে বলেই আশাবাদী আমরা। পর্যটকদের চাহিদা শুনে তাই মনে হচ্ছে। 
পর্যটন মানচিত্রে দার্জিলিং, কালিম্পং ও সিকিম পাহাড়ের নাম নতুন নয়। সেগুলির চাহিদা বরাবরই রয়েছে। তা হলেও তরাইয়ের বেশকিছু গ্রামীণ পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমণপ্রিয় বাঙালির নজরে। সেগুলির মধ্যে তরিবাড়ি অন্যতম। শিলিগুড়ি শহরের উপকণ্ঠে জলপাইগুড়ির জেলার ডাবগ্রাম-১ পঞ্চায়েতের অধীনে। গুলমা নদী বেষ্টিত এই গ্রামের পাশেই বনাঞ্চল ও বেঙ্গল সাফারি পার্ক। ইতিমধ্যে নিরিবিলি এই গ্রামে গড়ে উঠেছে বেশকিছু রেস্তরাঁ ও হোমস্টে। নদীর স্রোতের শব্দ ও পাখির কলতান মুগ্ধ করবে পর্যটকদের। 
স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য তৃণমূল কংগ্রেসের যশোদা সুনার বলেন, এখানে সাতটি হোমস্টে রয়েছে। সবক’টিই ভর্তি হয়ে গিয়েছে। এখানে বাঙালি থেকে চাইনিজ সবধরনের খাবার মেলে। পুজোর জন্য ভাত, ডাল, সবজি, ফ্রায়েডরাইস করছে রেস্তরাঁগুলি। সেই সঙ্গে লুচি, সবজি, চাউমিন, মোমো সহ বিভিন্নরকম পদ পাবেন পর্যটকরা। পাহাড়ে যাওয়ার আগে কিংবা পাহাড় থেকে নামার সময় এই গ্রামে আসতে পারবেন তাঁরা। 
আরএকটি দর্শনীয়স্থান গজলডোবা। তিস্তা ব্যারেজের পাশেই সেই গ্রামে। এখানে তিস্তা ব্যারেজের বিপরীতে থাকা ঝিলে রয়েছে হোগলা পাতার জঙ্গল। সেই ঝিলে নৌকাবিহার করানো হয়। এরবাইরে ঝুলন্ত সেতুতে সেলফি তোলা, তিস্তার পাড়ে বসে গল্প করা, ব্যাটারিচালিত গাড়িতে ভ্রমণ করে এলাকার স্বাদ নিতে পারবেন পর্যটকরা। এখানেই মিলবে ভাত, ডাল, সবজি ও মাছের বিভিন্ন ধরনের পদ। মাছের পদের সেই তালিকায় বোরলির ঝাল, বোরলির ঝোল, চিংড়ির চপ, কাঁকড়া ভাজা রয়েছে। সঙ্গে লালমোহন ও রসগোল্লা।
এরবাইরে নকশালবাড়ির লালপুল ও খড়িবাড়ির নেপাল সীমান্তও অন্যতম। চা বাগান, পাহাড়ি নদী বেষ্টিত গ্রামগুলি। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলির হোটেল ও রেস্তরাঁয় মিলবে সাদা ভাতের পাশাপাশি বিরিয়ানি ও রকমারি মিষ্টি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ