নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে পা রাখলেন হলদিয়ার বিজেপি বিধায়ক তাপসী মণ্ডল। তাঁর সঙ্গে জোড়াফুল শিবিরে শামিল হয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বিজেপির আরও নেতা-কর্মী। আর তারপরই দানা বাঁধল প্রশ্ন, তাহলে কি ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে বঙ্গ বিজেপিতে ভাঙন শুরু হয়েই গেল? তৃণমূল দাবি করেছে, যোগদানের জন্য অপেক্ষায় আছেন বিজেপির একাধিক জনপ্রতিনিধি ও তাবড় নেতা। সময় এলেই সবটা প্রকাশ পাবে।
বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং নেতৃত্বের উপর অনাস্থা নিত্য চর্চার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে। বিধানসভা ভোটের লক্ষ্যে ক্যালেন্ডারের পাতা যত উল্টাচ্ছে, ততই যেন বাড়ছে বঙ্গ ব্রিগেডের অন্তর্কলহ। গেরুয়া শিবির ছাড়ছেন একের পর এক নেতানেত্রী। সেই তালিকায় সোমবার নাম লিখিয়েছেন তাপসী মণ্ডল। পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনীতিতে অতি পরিচিত মুখ তিনি। এদিন তাপসীদেবী তৃণমূল ভবনে উপস্থিত হয়ে রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের কাছ থেকে দলের পতাকা হাতে নিয়ে তৃণমূলে শামিল হয়েছেন। ২০১৬ সালে সিপিএম ও ২০২১ সালে বিজেপির টিকিটে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন তাপসী। ছাব্বিশের ভোটের আগে রাজ্যের শাসক দলের সঙ্গে যুক্ত হলেন তিনি। এদিন তাপসীদেবীর যোগদানের পর বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ৭৭ থেকে কমে দাঁড়াল ৬৫’তে। মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে শামিল হয়েছেন তাপসী মণ্ডল।’ আর তাপসীদেবীর কথায়, ‘বাংলায় বিভেদের রাজনীতি করছে বিজেপি। ফলে বিজেপিতে থেকে মানুষের জন্য কাজ করা কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছিল।’
বিভাজনের রাজনীতি হাতিয়ার করে বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি—রাজ্যের বিরোধী দলনেতার এই পরিকল্পনা এদিন ফাঁস করে দিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিজেপি নেতা শ্যামল মাইতি। তৃণমূলে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর গদি দখলের জন্য হিংস্র রাজনীতিতে নেমেছেন বিরোধী দলনেতা। তার প্রতিবাদেই আমরা সকলে বিজেপি ছাড়লাম।’
তাপসীদেবী সহ জেলার অন্য নেতাদের দলত্যাগ যে বিজেপির জন্য বড় ধাক্কা, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এদিন বিধানসভায় এসে বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে খাওয়াদাওয়াও সেরেছিলেন তাপসীদেবী। কিন্তু তিনি দল ছাড়বেন, সেটা বিজেপি বুঝতেও পারেনি। তাপসী মণ্ডলকে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তন্ময় ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, ‘কয়েক হাজার বিজেপি কর্মী-সমর্থক তৃণমূলে যোগদানের অপেক্ষায় আছেন।’