নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজকে অন্যায় সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য ১০ লাখ টাকা ঘুষ নিতে গিয়ে সিবিআইয়ের হাতে ধৃত ডাক্তার সিপিএমপন্থী চিকিৎসক সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। এমনটাই জানা গিয়েছে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে। কলেজের অ্যানাটমির প্রধান ডাঃ তপনকুমার জানা নামে ওই শিক্ষক-চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরেই সিপিএমপন্থী ডাক্তার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথ সার্ভিস ডক্টর্সের (এএইচএসডি) সঙ্গে যুক্ত। সেকথা স্বীকার করেছে সেই সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বও।
আর জি কর আন্দোলনের সময় এএইচএসডি শাসক দল এবং তাদের চিকিৎসক সংগঠনের একাধিক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে থ্রেট কালচারের অভিযোগ তুলেছিল। কিন্তু মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে জানা যাচ্ছে, এক উলটপুরাণের কাহিনি। একাধিক ছাত্রছাত্রী এবং কলেজের প্রাক্তনী জানিয়েছেন, ‘গায়ে মানে না আপনি মোড়ল’ ছিলেন ডাঃ জানা। কলেজের ছাত্র-শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপর হম্বিতম্বি করতেন। আপ্রাণ চেষ্টা করতেন নিজেকে কেউকেটা প্রতিপন্ন করার। এমনকী তাঁর বিরুদ্ধেও কলেজে থ্রেট কালচার চালানোরও অভিযোগ করছেন প্রাক্তনীদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, নিজের কলেজ হওয়া সত্ত্বেও, সেখানে তাঁদের ঢুকতে বাধা দিতেন ওই শিক্ষক চিকিৎসক। খেলা হোক বা সমাবর্তন বা কোনও জরুরি বৈঠক বা সেমিনার, তপনবাবুর ভাবাখানা এমনই ছিল যে সব জায়গাতেই তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দিতে হবেই। এ নিয়ে কিছুদিন আগে হওয়া সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তুমুল গোলমাল হয়। ছাত্রছাত্রীরা তাঁকে মঞ্চেই উঠতে দেননি। তা নিয়ে অন্যান্য কিছু বিভাগীয় প্রধানকে দলে টেনে ঘোঁট পাকানোর চেষ্টা করেন অ্যানাটমির ওই বিভাগীয় প্রধান। পূর্ব মেদিনীপুরের আদি বাসিন্দা ওই চিকিৎসক ধরা পড়ার পর থেকে মুর্শিদবাদ মেডিক্যালের প্রাক্তনী এবং ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ডাঃ জানা এবং তাঁর অতীত কাজকর্ম নিয়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়েছে। ওই চিকিৎসক সবসময় হামবড়া ভাব দেখাতেন ও প্রতিষ্ঠানের খুঁত ধরে বেড়াতেন বলে জানিয়েছেন মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ অমিত দাঁও। এএইচএসডি’র রাজ্য সম্পাদক ডাঃ উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তাঁর আমাদের সংগঠনের সদস্য থাকা বা না থাকা সেই প্রেক্ষিতে গৌণ। আমরা চাইব, গোটা ঘটনার যেন সুষ্ঠু তদন্ত হয় এবং সবকিছু দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়।
এদিকে সিবিআই আধিকারিকরা আয়কর দপ্তরের কাছ থেকে ওই চিকিৎসকের আইটিআর চেয়েছেন। তিনি কী কী স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি দেখিয়েছেন, কত গয়নাগাঁটি দেখিয়েছেন, গত পাঁচ বছরে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ বেড়েছে কি না, বাড়লে কতটা ও কীভাবে—এইসব তথ্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা খতিয়ে দেখতে চান। তাঁর এবং তাঁর পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যও সিবিআই খতিয়ে দেখছে। তিনি বেনামে জমি-বাড়ি কিছু কিনেছেন কি না, দেখা হচ্ছে তাও।