নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ট্যাঙ্কার থেকে ২৫ হাজার লিটার পেট্রল ‘আনলোড’ করা হচ্ছিল পাম্পে। তখনই বিপত্তি। ধোঁয়া বের হতে দেখা মাত্র চালক ট্যাঙ্কার সরিয়ে ফেলেন সার্ভিস রোডে। তারপরই দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে আস্ত ট্যাঙ্কার। দ্রুত চলে আসে দমকলের পাঁচটি ইঞ্জিন। ফলে শুক্রবার বড়সড় অগ্নিকাণ্ডের হাত থেকে রক্ষা পেল স্মার্টসিটি নিউটাউন। তবে এই ঘটনার ফলে সার্ভিস রোড এবং মূল রাস্তায় যান চলাচল ব্যহত হয়। যানজট মোকাবিলায় রুট ডাইভারশন করে ট্রাফিক পুলিশ। তবে কীভাবে তেলের ট্যাঙ্কারে আগুন লাগল, তা জানা যায়নি। তদন্ত শুরু হয়েছে।
নিউটাউনের প্রাণকেন্দ্র সিটি স্কোয়ার এলাকা। তার পাশেই রয়েছে ওই পেট্রল পাম্প। এদিন বিকেলে পেট্রল ভর্তি ট্যাঙ্কারটি হাওড়ার আন্দুল থেকে নিউটাউনে আসে। বিকেল ৪টের পর ট্যাঙ্কার থেকে পাম্পে পেট্রল ‘আনলোড’ করা হচ্ছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যখন ওই কাজ চলছিল, তখনই কালো ধোঁয়া বেরতে শুরু করে। ট্যাঙ্কারের চালক এক সেকেন্ড সময় নষ্ট করেননি। সঙ্গে সঙ্গে ট্যাঙ্কারটি ৩০-৪০ মিটার দূরে সার্ভিস রোডে সরিয়ে নিয়ে যান তিনি। তারপর লাফ দিয়ে নেমে পড়েন। দাউ দাউ করে জ্বলে যায় ট্যাঙ্কার। অল্প দূরত্বেই রয়েছে দমকল কেন্দ্র। খবর পাওয়া মাত্র পরপর পাঁচটি দমকলের ইঞ্জিন এসে প্রায় ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বিধাননগর কমিশনারেটের ডিসি ট্রাফিক নিমা নরবু ভুটিয়া, ডিসি নিউটাউন মানব সিংলা সহ পদস্থ আধিকারিকরা।
স্থানীয়দের কথায়, চালক যদি ট্যাঙ্কারটি সরাতে না পারতেন এবং দমকল পৌঁছতে যদি দেরি করত, তাহলে বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটে যেত। পাশেই মল ও একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। ট্যাঙ্কার বিস্ফোরণ হলে আগুন ছড়িয়ে পড়ত। তাছাড়া, ব্যস্ততম নিউটাউনের রাস্তায় সেই সময় প্রচুর গাড়িও ছিল। তাতেও আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারত। আগুনের কারণে এয়ারপোর্টগামী লেন ও সার্ভিস লেনে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ব্যহত হয় অন্য লেনটিও। যানজট পরিস্থিতি তৈরি হয়। বেশ কিছুক্ষণ পর ট্রাফিক পুলিশ দুর্ঘটনাস্থলকে বাদ রেখে তার আগে থেকে গাড়ি ঘুরিয়ে দিতে শুরু করে। আগুন পুরোপুরি নেভার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।