সংবাদদাতা, কালনা: আশিতে অসাধ্য সাধন! শুক্রবার রাউরকেল্লায় আয়োজিত হয় ওড়িশা ন্যাশনাল মাস্টার্স গেমস। সেখানে তিনটি ইভেন্টে স্বর্ণপদক জিতে তাক লাগিয়ে দিলেন কালনার বাসিন্দা আশি-উর্ধ্ব অনিমা তালুকদার। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে অনিমাদেবীকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন কালনার বাসিন্দারা।
কালনার কৃষ্ণদেবপুর এলাকার বাসিন্দা অনিমা তালুকদার দু’দশক আগে স্কুল শিক্ষিকার পদ থেকে অবসর নিয়েছেন। ছাত্রজীবন থেকেই খেলাধুলোর প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ ছিল। বিশেষ করে, দৌড়, জ্যাভলিন থ্রো, শটপাট প্রভৃতি ইভেন্টে ছিল বেশি আগ্রহ। পরবর্তীতে শিক্ষকতার চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরও খেলাধুলো ও অ্যাথলেটিকসের প্রতি তাঁর আগ্রহ তিলমাত্র কমেনি। ২০০৪ সালে চাকরি জীবন থেকে অবসর নিলেও দৌড়, হাঁটা ও জ্যাভলিন থ্রো প্রভৃতি ইভেন্টে অনুশীলন চালিয়ে যান। পাশাপাশি, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতায় নামেন। সাফল্য আসতে থাকে। অনিমাদেবী ২০২২ সালে সিঙ্গাপুরে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মাস্টার্স ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। সেখানে বিশ্বের নানা দেশের প্রতিযোগীদের পিছনে ফেলে হাঁটা ও দৌড়ে দু’টি সোনা এবং শটপাটে ব্রোঞ্জ পদক জয় করেন। তাঁর ছেলে-মেয়েরা চিকিৎসক ও সরকারি উচ্চপদে প্রতিষ্ঠিত। দীর্ঘ অবসর জীবনে নিজের সংসারের কাজ একাই করেন। নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি প্রতিদিন ভোরে উঠে নিয়মিত হাঁটাহাটি, দৌড়, জ্যাভলিন ও শটপাটের অনুশীলন করেন। এই বয়সেও তিনি শারীরিকভাবে অন্যদের তুলনায় যথেষ্ট সক্ষম।
এবার ৬-৯ মার্চ রাউরকেল্লায় বিরসা মুণ্ডা অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে ওড়িশা সপ্তম ন্যাশনাল মাস্টার্স গেমসের আসর বসে। তাতে যোগ দিতে ২ মার্চ রাউরকেল্লা পাড়ি দেন অনিমাদেবী। শুক্রবার সেখানে তিনি পাঁচ কিলোমিটার হাঁটা, জ্যাভলিন থ্রো ও ১০০ মিটার দৌড়ের তিনটি ইভেন্টে স্বর্ণপদক জয় করেন। বার্ধক্যের ক্লান্তিকে জয় করে তাঁর এই সাফল্যে খুশি পরিবার ও কালনার বাসিন্দারা। তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি বছরের শেষে তিনি জাপানে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড মাস্টার্স গেমসে অংশ নেবেন। অনিমাদেবী বলেন, শরীরকে সুস্থ রাখতে হাঁটা খুবই প্রয়োজন। বাড়িতে অলসভাবে জীবনযাপনের বদলে সংসারের ধারাবাহিক কাজকর্ম শরীরকে সুস্থ রাখার আর এক উপায়। আমি সংসারে নিজের কাজ নিজেই করি। নিয়মিত সকালে উঠে মাঠে গিয়ে হাঁটা সহ অন্যান্য অনুশীলন করি। এই সাফল্য আগামী দিনে আমাকে আরও উৎসাহিত করবে। অনিমাদেবীর মেয়ে অঞ্জলি তালুকদার ও অসীমা তালুকদার বলেন, মায়ের সাফল্যে খুবই ভালো লাগছে। এই বয়সে মায়ের ফিটনেস আমাদের অবাক করে। আমরা আশাবাদী, মায়ের জেদ ও অধ্যাবসায় আগামী দিনে আরও সাফল্য আনবে।