শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: উড়তা পাঞ্জাব নয়! এ যেন এক টুকরো ‘উড়তা কলকাতা’। নেশার অন্ধকারে একটু একটু করে তলিয়ে যাচ্ছে এ শহরের কৈশোর থেকে যৌবন। মাদক কারবারের জাল বহুদূর ছড়িয়েছে, তা উপড়ে ফেলতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশ প্রশাসনকে। আর সবটা জানার পর নড়েচড়ে বসেছে কলকাতা হাইকোর্ট। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দাকে এ বিষয়ে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ।
সাম্প্রতিক সময়ে পূর্ব কলকাতার একাংশ জুড়ে অবাধে চলছে মাদক ব্যবসা। গোটা কলকাতা তো বটেই, শহরতলির সীমানা পেরিয়ে গোটা রাজ্যে মাদক সাপ্লাইয়ের হাব হয়ে উঠেছে এইসব এলাকা। টার্গেট মূলত স্কুল ও কলেজের পড়ুয়ারা। কী নেই? গাঁজা, চরস, হাসিস, হেরোইন থেকে শুরু করে ইয়াবা। একটু বেশি খসালে মিলতে পারে এমডিএমএ, এলএসডি কিংবা কেটামাইনের মতো পার্টি ড্রাগও। অভিনব কায়দায় চলছে গোটা নেটওয়ার্ক। মূলত প্রথমে নাবালকদের নেশার জালে জড়ানো হচ্ছে। তারপর তাদেরই এজেন্ট বানিয়ে চলছে গোটা কারবার। যা নিয়ে সম্প্রতি একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল হাইকোর্টে। মামলাকারী ট্যাংরা এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা। তাঁরা জানিয়েছেন, ট্যাংরার পিলখানা, খালপাড়, কাপালি বাগান, গোবিন্দচন্দ্র খটিক রোড, ধোবিয়া তালাও মুসলিম ক্যাম্প, বিবি বাগান, চটকল, বিচালি ঘাট ও পটারি এলাকার মধ্যে অবস্থিত রেল লাইন সংলগ্ন এলাকা জুড়ে অবাধে চলছে এই মারণ ব্যবসা। অভিনব কায়দায় চলছে মাদক সাপ্লাই। এভাবেই দিনের পর দিন ফুলেফেঁপে উঠছে কারবার। মাদক সাপ্লাইয়ের কাজে মূলত নাবালকদেরই ব্যবহার করা হয়। এইসব এলাকাগুলি দেখভাল করে মূলত এন্টালি থানা, ট্যাংরা থানা এবং জিআরপি। ড্রাগ মাফিয়াদের কাছে এইসব এলাকা হাতের তালুর মতো চেনা। পুলিশের চোখে ধুলো দিয়েই চলে কারবার।
মামলার শুনানি চলাকালীন রাজ্যের তরফে অ্যাডিশনাল গভর্নমেন্ট প্লিডার শিয়ালদহ জিআরপির ডেপুটি সুপারের একটি রিপোর্ট উল্লেখ করে বলেন, সম্প্রতি পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। সেইমত গত মে মাসের ১৩ তারিখ এবং আগস্ট মাসের ৯ ও ১৫ তারিখ শিয়ালদহ জিআরপিতে তিনটি মামলা রুজু হয়েছে। এছাড়াও ১৩ মে এন্টালি থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। সব মিলিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছে মোট আটজন। এই কারবারের কিং পিনদের ধরার চেষ্টা চলছে বলে আদালতকে জানানো হয়েছে। এই রিপোর্ট দেখার পরই নড়েচড়ে বসেছে হাইকোর্ট। বেঞ্চ এই ঘটনায় কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই এলাকায় মাদক সংক্রান্ত যতগুলি মামলা দায়ের হয়েছে, তার যাবতীয় তথ্য সহ বিস্তারিত রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে বলেছে বেঞ্চ। ২১ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি।