নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: কোচবিহার সফরে এসে দলের অন্দরে কার্যত ঐক্যের বার্তাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে। এই আবহের মধ্যেই কোচবিহার সফরে এসেছেন দলনেত্রী। দলের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক (হিপ্পি), মন্ত্রী উদয়ন গুহ ও পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে এখন। সেই রবীন্দ্রনাথ ঘোষকেই জেলা পার্টি অফিসে নিয়ে গিয়ে চা খাওয়ানোর পরামর্শ অভিজিৎ দে ভৌমিককে দিলেন সুপ্রিমো।
দলের একটি বিশেষ সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সোমবার কোচবিহার রবীন্দ্রভবনে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সভা শেষ হওয়ার পর সভামঞ্চের বাইরে পর্যায়ক্রমে বংশীবদন বর্মন, রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে ডেকে নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবীন্দ্রনাথ ঘোষের সঙ্গে প্রায় আট মিনিট ধরে কথা বলেন তিনি। এরপর অন্যান্য নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেন। সেখান থেকে মদনমোহন মন্দিরের উদ্দেশে রওনা হন মুখ্যমন্ত্রী। মন্দিরে পুজো দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় দলের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক দলের সুপ্রিমোকে জেলা তৃণমূল পার্টি অফিসে চা খাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী অভিজিৎবাবুকে পরামর্শ দেন, রবিবাবুকে জেলা কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে চা খাওয়ানোর। মুখ্যমন্ত্রীর এই ইঙ্গিতে রবি বনাম অভিজিৎ সহ অন্যান্য নেতৃত্বের মধ্যে দূরত্ব ঘুচবে কি না তা অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী জেলা থেকে চলে যাওয়ার পরই বোঝা যাবে।
এদিকে, মন্ত্রী উদয়ন গুহও এদিন মদনমোহন মন্দির থেকে বেরিয়ে যে মন্তব্য করেছেন তাও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, তৃণমূলের এখন বড় ঘর। সেই ঘরে সকলকে নিয়েই থাকার বার্তা দিয়েছেন নেত্রী। বর্ষীয়ান তৃণমূল কংগ্রেস নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, মদনমোহন মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় অভিজিৎ দে ভৌমিক মুখ্যমন্ত্রীকে পার্টি অফিসে চা খেতে যাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। সেই সময় তিনি জেলা সভাপতিকে বলেছেন রবিকে নিয়ে গিয়ে চা খাওয়াও। এদিন সভা শেষে নেত্রীর সঙ্গে প্রায় আট মিনিট কথা হয়েছে আমার। বেশকিছু উপদেশ দলনেত্রী আমায় দিয়েছেন।
উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী দেড় বছর বাদে জেলায় এসেছেন। তিনি আমাদের ও পরিবারের সদস্যদের কুশল সংবাদ জিজ্ঞাসা করেছেন। নেত্রী বার্তা দিয়েছেন, একটা ঘরে সকলেই থাকবেন। জেলা তৃণমূল সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক বলেন, আমাদের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ডিসটার্ব করার জন্য এসআইআর নিয়ে একটা গভীর চক্রান্ত চলছে। অন্য ছোটখাট বিষয়কে এড়িয়ে গিয়ে আমরা যাতে সেদিকে মনোনিবেশ করি, তার জন্যই এই ষড়যন্ত্র। বিজেপি খুব পরিকল্পনা নিয়ে ময়দানে নেমেছে। ডিটেনশন ক্যাম্প করে আমাদের লোকদের ঢোকাবে। তারজন্য সচেতন থেকে কাজ করতে হবে। আমাদেরও সংবাদমাধ্যমের কাছে এত বেশি আসা ঠিক নয়। যতটা বেশি মানুষের কাছে যাওয়া উচিত, তার থেকে বেশি সংবাদমাধ্যমের কাছে যাচ্ছি! মুখ্যমন্ত্রী এটা বারণ করে দিয়েছেন। এসআইআর নিয়ে ভালো করে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন দলনেত্রী।
এরপরেই অভিজিৎবাবুকে জিজ্ঞাসা করা হয় রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে ডেকে কি চা খাওয়ানোর কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি বলেছি উনি (রবি ঘোষ) তো দলীয় কার্যালয়ে যান। বাস্তবে তিনি কিন্তু যান না। তবুও বলেছি।