সংবাদদাতা, হলদিয়া: তাপসী মণ্ডলকে সামনে রেখে আগামী দিনে হলদিয়ায় তৃণমূল কীভাবে এগবে কিংবা দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব তাঁকে কোন দায়িত্ব দেবে, তা নিয়েই মঙ্গলবার দিনভর চর্চা চলেছে শিল্পশহরে। চায়ের আড্ডা, বাজার থেকে অফিসপাড়া সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন তৃণমূলে নবাগত বিজেপির বিধায়ক তাপসী মণ্ডল। তাঁর বারবার দল বদলের বিষয় নিয়ে একদল যেমন কটাক্ষ করছে, আবার অন্যদল ব্যস্ত চুলচেরা রাজনৈতিক বিশ্লেষণে। কেউ কেউ একধাপ এগিয়ে তাপসীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে তাপসীকে নিয়ে সোমবার সন্ধে থেকে সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া। সেখানে তাপসী মণ্ডলের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সরব হয়েছেন নেট নাগরিকরা।
তবে সবচেয়ে লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, দল ছাড়ার পরই তাপসীকে নিয়ে বিজেপি নেতা কর্মীদের মন্তব্য। অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপির নেতা-কর্মীরা নামে বেনামে রীতিমতো কুৎসা শুরু করেছে তাপসীর নামে। আড়ালে থেকে হলদিয়ার তৃণমূলের কেউ কেউ সেখানে ইন্ধন জোগাচ্ছে।
তৃণমূল সূত্রে খবর, সোমবার তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরই তাপসী নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে তাঁদের প্রায় ৪৫ মিনিট কথা হয়েছে। ওইসময় মুখ্যমন্ত্রী তাপসীকে কীভাবে কাজে লাগানো হবে, তা নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের কথা স্বীকার করলেও কী কথা হয়েছে, তা নিয়ে মুখ খোলেননি তাপসী। সঙ্গী ছিলেন তাঁর রাজনৈতিক উপদেষ্টা শ্যামল মাইতি। সিপিএমের প্রাক্তন যুবনেতা শ্যামল বিজেপির রাজ্য কমিটির নেতা ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক কূটকৌশলেই ২০১৬ সালে সিপিএমের বিধায়ক হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন তাপসী। দক্ষ রাজনৈতিক সংগঠক হিসেবে শ্যামল সিপিএম ও বিজেপি উভয় দলের রাজ্য নেতাদের কাছে গুরুত্ব পেতেন। তাপসী ও শ্যামলের যুগলবন্দি এবার হলদিয়ার তৃণমূলে প্রাণসঞ্চার করে কি না তা নিয়ে শিল্পশহরে বিভিন্ন মহলে জোর কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
তাপসী বলেন, অসুস্থ থাকায় বিধানসভায় যেতে পারিনি। সুস্থ হয়েই বিধানসভার অধিবেশনে যোগ দেব। হলদিয়া শিল্পাঞ্চলের উন্নয়নের বিষয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ আলোচনা হয়েছে। মানুষের কাছে গিয়ে তাঁদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব। জানা গিয়েছে, এদিন বিধানসভায় তাপসী না পৌঁছনোয় নানা মহলে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। দিনভর তাপসীর মোবাইল বন্ধ ছিল। এতদিন তাঁর পাহারায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান ছিলেন। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সোমবারই তিনি ছেড়ে দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার তাপসীর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। মঙ্গলবার থেকেই দু’জন দেহরক্ষী দেওয়া হয়েছে তাঁকে। তাপসীকে পুরসভায় প্রশাসক পদে বা হলদিয়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বোর্ড সদস্য পদ দেওয়া নিয়ে জল্পনা রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন তাপসীকে এইচডিএর সদস্য করা হতে পারে।
তবে তাপসীকে নিয়ে হলদিয়ায় তৃণমূলে তেমন উচ্ছ্বাস নেই। বিজেপি বিধায়ক তৃণমূলে যোগদানের পর সৌজন্য সাক্ষাৎ করতেও কোনও হলদিয়ার নেতা তাপসীর বাড়ি যাননি। হলদিয়ার শহর তৃণমূলের সভাপতি মিলন মণ্ডল বলেন, রাজ্য নেতৃত্ব এই বিষয়টি দেখছে। তারা যেভাবে নির্দেশ দেবে, সেভাবেই কাজ হবে।