শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: কলকাতা পুলিসের ইবি’র মালখানা থেকে উধাও বাজেয়াপ্ত হওয়া টি-শার্ট। যার মূল্য প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদালত টি-শার্ট প্রস্তুতকারক সংস্থার মালিককে সেগুলি ইবি’র হেফাজতে (জিম্মানামা) রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। এখন সেগুলি ফেরত দিতে গিয়েই বেরিয়ে এল আসল কাহিনি। মাথায় হাত পুলিসের! কয়েক হাজার টি-শার্টের কি হাত-পা গজিয়েছে যে, সেগুলি নিজে নিজেই উধাও হয়ে গেল মালখানা থেকে! দেখা যাচ্ছে, মালখানায় খালি প্লাস্টিকের প্যাকেট পড়ে রয়েছে, তাতে টি-শার্ট নেই। এ নিয়ে রীতিমতো হুলস্থূল পড়ে যায় লালবাজারে। শুরু হয় অনুসন্ধান। তা করতে গিয়ে আরও বড় কেলেঙ্কারি ধরা পড়ে। জানা যায়, সিজার লিস্টই ঠিক মতো তৈরি হয়নি। এই মামলার তদন্তকারী অফিসার ও মালখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের গাফিলতি ধরা পড়ে। তাঁদের জরিমানা করা হয়েছে বলে লালবাজার সূত্রে খবর। ইবি’র ভারপ্রাপ্ত ডিসি অরিন্দম সরকারকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে যা বলার লালবাজারের মুখপাত্র বলবেন। লালবাজারের এক কর্তা বিষয়টি বিভাগীয় বিষয় বলে মন্তব্য এড়িয়ে গিয়েছেন।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মাস ছয়েক আগে রাজাবাগান থানা এলাকা থেকে প্রচুর টি-শার্ট বাজেয়াপ্ত করেছিল ইবি। অভিযোগ, বড় কোম্পানির লোগো নকল করা হয়েছে। ওই টি-শার্ট কার্টনে ভরে আনা হয় ইবি অফিসে। নিয়মমাফিক সেগুলি রাখা হয় মালখানায়। টি-শার্টগুলি যাঁর থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল, তিনি আলিপুর আদালতে আবেদন করেন, বাজেয়াপ্ত করা টি-শার্ট মালখানায় রাখলে নষ্ট হতে পারে। তাই মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদালত জিম্মানামা করে তাঁর কাছেই টি-শার্টগুলি রাখার অনুমতি দিক। আদালত ওই আবেদন মঞ্জুর করেছে।
লালবাজার সূত্রে খবর, এই নির্দেশের কপি হাতে নিয়ে সংস্থাটির মালিক ইবি অফিসে হাজির হন টি-শার্ট নিতে। ওই অর্ডারের কপি আসল কি না, যাচাই করতে সময় নেন ইবি’র আধিকারিকরা। কিন্তু তারপর কয়েকদিন কেটে গেলেও তাঁকে কিছু না জানানোয় তিনি সরাসরি লালবাজারে গিয়ে এক শীর্ষকর্তার কাছে অভিযোগ জানান। তার ভিত্তিতে শুরু হয় বিভাগীয় তদন্ত।
অনুসন্ধান করতে গিয়ে বের করা হয় সিজার লিস্ট। সাধারণত, কিছু সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হলে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ লিখে রাখতে হয় সিজার লিস্টে। কী জিনিস, তার রং কী, কতগুলি কার্টেন, প্রতি কার্টেনে কতগুলি টি-শার্ট, কার্টেনগুলি মার্কিং করা ছিল কি না, ইত্যাদি। দেখা যাচ্ছে, সিজার লিস্টে শুধু লেখা, কার্টেন সহ টি-শার্ট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী অফিসারকে ডেকে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। সূত্রের খবর, তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এমনকী, মালখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনিও সদুত্তর দিতে পারেননি। আধিকারিকরা নিশ্চিত হন যে, মালখানা থেকে বাজেয়াপ্ত হওয়া সামগ্রী যে সরেছে, তা জানতেন দু’জনেই। ধাপে ধাপে ওই টি-শার্টগুলি সরানো হয়েছে। কিন্তু সব জেনেও তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তা জানাননি। কারা সেগুলি নিয়ে গিয়েছে, সেব্যাপারে অনুসন্ধান চলছে। ওই দুই অফিসারের কাজে গাফিলতির অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় তাঁদের ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।