Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৯৪টি দোকান ও বাড়ি উচ্ছেদের জন্য ফের নোটিস জারি রেলের

৯৪টি দোকান ও বাড়ি উচ্ছেদের জন্য ফের নোটিস জারি রেলের
  • ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: ফের একবার উচ্ছেদের নোটিস দিল রেল। নবদ্বীপধাম স্টেশন রোডের ব্যবসায়ীদের আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে রেলের জমি থেকে দোকান সরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় রেল আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। নবদ্বীপধাম স্টেশনে অমৃত ভারত প্রকল্পের কাজের জন্য বছরখানেক আগে দু’ দফায় উচ্ছেদের নোটিস দিয়েছিল রেল। সেই দু’ বার দোকানপাট সরিয়ে নেওয়া হলেও ফাঁকা জমিতে কোনও কাজ আজও হয়নি। মঙ্গলবার আবার রেলের সীমানার মধ্যে থাকা বেশকিছু দোকান এবং বসতবাড়ি মিলিয়ে ৯৪টি কাঠামো সরিয়ে নিতে নোটিস দিল রেল কর্তৃপক্ষ। যদিও কয়েক ঘণ্টা পর রেলের জায়গায় থাকা বসতবাড়িগুলি থেকে উচ্ছেদের নোটিস প্রত্যাহার করে রেল। বাড়িগুলির বাসিন্দারা জানান, তাঁদের বলা হয়েছে বাড়ির সামনে দোকান থাকলে সেগুলিকে সরিয়ে ফেলতে হবে, তবে আপাতত বাড়িগুলি না সরালেও চলবে। রেলের এই সিদ্ধান্তে রীতিমতো ধন্দে বসবাসকারীরা। 
Advertisement
নবদ্বীপধাম বিদ্যাপীঠের সামনে থেকে ব্যাদড়াপাড়া গুমটি পর্যন্ত বাসিন্দারা উচ্ছেদের নোটিস পেয়ে কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। ব্যাদড়াপাড়া গুমটিতে মুদিখানার মালিক তারক দাস বলেন, আমার প্রায় ৪৫ বছরের পুরনো এই দোকান। এই দোকানের আয় থেকেই অসুস্থ বৃদ্ধ বাবা-মা এবং পরিবারের ১২ সদস্যের খাওয়াপরা চলে। প্রায় একবছর আগে প্রথম দফায় নবদ্বীপ ১৪ নম্বর স্পেশাল রেলগেট থেকে স্টেশন পর্যন্ত উচ্ছেদ নোটিস দিয়ে দোকান তুলে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ফের নবদ্বীপ বিবেকানন্দ স্টেডিয়াম পর্যন্ত দোকানগুলোকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সেইসব ফাঁকা জমিতে কোনও উন্নয়ন হয়নি। জায়গাগুলো একই অবস্থায় পড়ে আছে। রেলের পক্ষ থেকে তৃতীয়বার  উচ্ছেদ নোটিস দেওয়া হয়েছে। রেল উন্নয়নের কাজ শুরু করলে আমরা নিজে থেকেই উঠে যাব। তবে আমরা এখন দোকান তুলব না। রেলের কাছে ডেপুটেশন দেব। 
রেলের জায়গায় বসবাসকারী শিখা দাস, টুসী দেবনাথরা বলেন, ৪০-৪৫ বছর ধরে এখানে রয়েছি। আমাদের বাড়িগুলোতও রেল নোটিস দিয়েছিল। এক ঘণ্টা পরে এসে ওরাই আবার ছিঁড়ে দেয়। ওঁরা জানান, এখন দোকান উচ্ছেদ হবে, বাড়ি নয়। যত যাই হোক, রেল আধিকারিকদের আমাদের কথা ভাবতে হবে।
নবদ্বীপের রেলের এক আধিকারিক বলেন, কাজটা দেরি হচ্ছে তার কারণ এখন টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের টেন্ডার ডাকা শুরু হয়েছে। তবে নতুন স্টেশন বিল্ডিংয়ের কাজ কিন্তু ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। রেলের জায়গা যারা দখল করে আছে তাদের তুলতে আমরা নোটিস দিয়েছি। এই মুহূর্তে আমরা দোকানগুলো তুলে ফেলার পরিকল্পনা করছি। বসত বাড়িতে যারা রয়েছেন তাঁদেরও উঠে যেতে হবে, তবে এখুনি নয়। উপরতলা থেকে যখন যেমন নির্দেশ আসবে আমরা তখন তেমন চলব। -নিজস্ব চিত্র
সম্পর্কিত সংবাদ