নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: থানায় বসেই ‘সিন্ডিকেট’ চালানোর অভিযোগ। এর পিছনে রয়েছে পুলিশকর্মী ও আইনজীবীদের একাংশের অনৈতিক যোগসাজশ। কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন থানার বিরুদ্ধে এমনই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যা জমা পড়েছে লালবাজারে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: থানায় বসেই ‘সিন্ডিকেট’ চালানোর অভিযোগ। এর পিছনে রয়েছে পুলিশকর্মী ও আইনজীবীদের একাংশের অনৈতিক যোগসাজশ। কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন থানার বিরুদ্ধে এমনই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যা জমা পড়েছে লালবাজারে।
কী সেই অভিযোগ? মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর সময় কেউ যদি ধরা পড়ে, সেক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী থানা পার্সোনাল রেকগনিজেন্স বন্ডে (পিআর বন্ড) জামিন দিতে পারে। এমনই নির্দেশ জারি করেছিলেন প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল। অথচ থানার পুলিশকর্মী ও আইনজীবীদের একাংশ যোগসাজশ করে সেই চালকদের বাধ্য করছে মোটা টাকার বিনিময়ে জামিন নিতে। চালকের স্ট্যাটাস যাচাই করে ঝোপ বুঝে কোপ মারছে তারা। কারও থেকে ৬ হাজার, কারও থেকে ১০ হাজার আবার কারও থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এমনকি, একজনের থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে অভিযোগ। থানায় এই ‘সিন্ডিকেট’-এর পোশাকি নাম ‘অ্যাডভোকেট ফি’।
২০২২ সালে ওস্তাদ রশিদ খানের স্ত্রী অভিযোগ করেন, তাঁর গাড়িচালক মদ্যপ অবস্থায় ধরা পড়েছিলেন। তাঁর কাছ থেকে অ্যাডভোকেট ফি’র নাম করে ৬ হাজার টাকা দাবি করেছিল প্রগতি ময়দান থানা। এরপরই নড়েচড়ে বসেছে লালবাজার। কর্তারা দেখেন, থানায় বসে রীতিমতো সিন্ডিকেট চালাচ্ছে পুলিশকর্মী ও আইনজীবীদের একাংশ। আগের নিয়মে থানা থেকে জামিন নিতে হলে কোনো আইনজীবীর মাধ্যমে বেল বন্ড জমা দিতে হত। নতুন নিয়মে বলা রয়েছে, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর সময় কেউ ধরা পড়লে সংশ্লিষ্টের বিরুদ্ধে মোটর ভেহিকেলসের ১৮৫ ধারায় কেস করা যাবে। অভিযুক্তকে পিআর বন্ডে জামিন দেবে থানা। এক্ষেত্রে অভিযুক্ত চালকের পরিচিত কাউকে ডেকে (যাঁর লাইসেন্স রয়েছে) গাড়ি ফেরত দেওয়া হয়। অভিযুক্তকেও ছাড়া হয় তাঁর সঙ্গে। পরে অভিযুক্ত আদালতে গিয়ে জরিমানার টাকা মেটান ও জামিন নিশ্চিত করেন।
তৃণমূল জমানায় কয়েক মাস এই ব্যবস্থা চালু থাকলেও পরে ‘অ্যাডভোকেট ফি’ আবার ফিরে আসে। পালাবদলের পরেও এই ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ। দেখা যায়, সন্ধ্যা নামলেই থানায় হাজির হয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন পুলিশ অফিসারের পেটোয়া আইনজীবীরা। রাতভর তাঁরা থানাতেই কাটাচ্ছেন। কোনো চালককে পুলিশ মদ্যপ অবস্থায় ধরে নিয়ে এলে কাজ শুরু হয় তাঁদের। তাঁরাই পুরানো নিয়মে অভিযুক্তদের বাধ্য করে জামিন নিতে। চলে রীতিমতো দর-কষাকষি। অভিযোগ, এই টাকার একটা অংশ ঘুরপথে পেয়ে থাকেন থানার পুলিশ কর্মীদের একাংশ।
বিষয়টি লালবাজারের কানে যেতেই খোঁজখবর শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই বিষয়ে পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দার বক্তব্য জানতে চেয়ে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠানো হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।