সিডনি: তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান ছিল, সিডনির বন্ডি সৈকতে হামলাকারী সাজিদ আক্রম ও নাভিদ আক্রম পাকিস্তানের বাসিন্দা। এর নেপথ্যে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট কোনও জঙ্গি সংগঠন রয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছিল। এবার সামনে এল এক ভারতীয় পাসপোর্ট। আর এই পাসপোর্টই তদন্তের মোড় ঘুরিয়েছে। জানা গিয়েছে, আদতে তারা ভারতের।
মঙ্গলবার তেলেঙ্গানা পুলিশের ডিজি জানিয়েছেন, হামলাকারী সাজিদ আক্রম জন্মসূত্রে হায়দরাবাদের। এখান থেকেই বি.কম ডিগ্রি পেয়েছিল। এরপর কাজের খোঁজে ১৯৯৮ সালের নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি দেয়। সেখানে গিয়ে ভেরেনা গ্রোসো নামে এক ইউরোপিয়ান মহিলাকে বিয়ে করে। তারপর থেকে ২৭ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়াতেই বসবাস। সেখানেই জন্মায় নাভিদ। উল্লেখ্য, বাবার সঙ্গে সিডনিতে হামলা চালিয়েছিল নাভিদ। বর্তমানে সে পুলিশ হেপাজতে রয়েছে। শুরু থেকেই সাজিদের কাছে ভারতীয় পাসপোর্ট ছিল। তবে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে তার তেমন কোনও যোগাযোগ ছিল না। ২৭ বছরে মাত্র ছয়বার ভারতে এসেছিল। এমনকি বাবার মৃত্যু সংবাদ পেয়েও ভারতে আসেনি সে। শেষবার ২০২২ সালে হায়দরাবাদে এসেছিল সাজিদ। পুলিশ আধিকারিকের কথায়, ওদের এই ধরনের কার্যকলাপের সঙ্গে ভারত বা তেলেঙ্গানার কোনও যোগসূত্র নেই। পরিবারে দাবি, খ্রিস্টান মহিলাকে বিয়ে করার জন্য বহু বছর আগেই তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়েছে।
এরইমাঝে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গতমাসে ফিলিপিন্সে গিয়েছিল সাজিদ ও নাভিদ। ১ নভেম্বর ভারতীয় পাসপোর্টে ফিলিপিন্সে ঢুকেছিল সাজিদ। আর ছেলের কাছে ছিল অস্ট্রেলিয়ার পাসপোর্ট। ভারতের এই পাসপোর্টের তথ্য সামনে আসতেই রহস্য ঘনিয়েছে। জানা গিয়েছে, গোটা নভেম্বর মাসটা ফিলিপিন্সে কাটিয়ে ২৮ নভেম্বর দেশ ছাড়়ে তারা। তদন্তকারীদের অনুমান, সেখানে মৌলবিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পাশাপাশি প্রশিক্ষণও নিয়েছিল বাবা-ছেলে। ইতিমধ্যেই সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। -ফাইল চিত্র