Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নাবালিকাকে খুনের চেষ্টা ও ডাকাতির ঘটনায় সাঁতার প্রশিক্ষকের যাবজ্জীবন, চিৎপুরের সাহসিনীকে সম্মানিত করার কথা বলল আদালত

চিৎপুর থানা এলাকায় ১০ বছরের এক নাবালিকাকে খুনের চেষ্টা ও ডাকাতির ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত সাঁতার প্রশিক্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিল আদালত।

নাবালিকাকে খুনের চেষ্টা ও ডাকাতির ঘটনায় সাঁতার প্রশিক্ষকের যাবজ্জীবন, চিৎপুরের সাহসিনীকে সম্মানিত করার কথা বলল আদালত
  • ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চিৎপুর থানা এলাকায় ১০ বছরের এক নাবালিকাকে খুনের চেষ্টা ও ডাকাতির ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত সাঁতার প্রশিক্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিল আদালত। সাজাপ্রাপ্তের নাম সন্দীপ সাউ। শনিবার শিয়ালদহের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক অনির্বাণ দাস ওই আদেশ শুনিয়েছেন। বিচারক ওই সাজার সঙ্গে অন্যান্য একাধিক ধারায় অপরাধীর বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক সাজা ও জরিমানার নির্দেশ দেন। তবে আদালতের মন্তব্য, সমস্ত সাজাই একসঙ্গে চলবে। বিচারক জরিমানার অর্ধেক টাকা নাবালিকার হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলেন। পাশাপাশি শুনানি চলাকালে অভিযুক্তকে শনাক্তকরণ ও নির্ভয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য নাবালিকার ভূমিকার প্রশংসা করেন বিচারক। এমনকি ওই নাবালিকাকে সম্মানিত করার বিষয়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার কথাও বলেছেন তিনি। বিচারক এই মামলার তদন্তকারী পুলিশ অফিসার সৌরভ রায়ের তদন্তেও সন্তোষ প্রকাশ করেন। যদিও সাজাপ্রাপ্ত ওই যুবকের তরফে বলা হয়, এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে যাবে। এদিন এই মামলার সাজা শুনতে আদালত চত্বরে বহু মানুষ ভিড় জমিয়েছিল। সন্ধ্যায় তাকে জেলের গাড়িতে ওঠানোর সময় নানা কটু মন্তব্যও ধেয়ে আসে ভিড় থেকে। 

Advertisement


মামলার বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি অসীম কুমার জানান, ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছিল। উত্তর কলকাতার চিৎপুর থানা এলাকায় ওই নাবালিকার ফ্ল্যাটে আসে সন্দীপ নামে সাঁতার প্রশিক্ষক। ফ্ল্যাটে ঢুকেই সে নাবালিকার গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে খুনের চেষ্টা করে। মেয়েটি ভয় পেয়ে চোখ বুজে থাকে। তারপর আলমারি থেকে গয়না, টাকা হাতানোর পর ওই সাঁতার প্রশিক্ষক নাবালিকার গলায় ছুরি চালিয়ে সেখান থেকে চম্পট দেয়। জখম নাবালিকাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই সে সমস্ত বিষয়টি কাগজে লিখে চিকিৎসকদের জানায়। পুলিশ তদন্তে নেমে অভিযুক্ত সাঁতার প্রশিক্ষককে পাকড়াও করে। তার বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা ও ডাকাতির মামলা দায়ের হয়। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মামলায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোর্টে চার্জশিট পেশ করা হয়। মামলায় সাক্ষ্য দেন ২২ জন সাক্ষী। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাক্ষী ছিল নাবালিকা নিজেই। তারই সাক্ষ্যে দোষী সাব্যস্ত হয় এই অপরাধী।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ