Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাড়ির গয়না না দেওয়ায় ছাত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টা, ধৃত সাঁতার প্রশিক্ষক

কাশীপুর রোডের একটি আবাসনের বাসিন্দা এক নাবালিকা কয়েক বছর ধরে হেদুয়ায় সাঁতার শেখে। তার সাঁতার প্রশিক্ষকের নাম সন্দীপ সাউ।

বাড়ির গয়না না দেওয়ায় ছাত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টা, ধৃত সাঁতার প্রশিক্ষক
  • ২০ মার্চ, ২০২৫ ১৭:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কাশীপুর রোডের একটি আবাসনের বাসিন্দা এক নাবালিকা কয়েক বছর ধরে হেদুয়ায় সাঁতার শেখে। তার সাঁতার প্রশিক্ষকের নাম সন্দীপ সাউ। অভিযোগ, প্রথমে মিথ্যা কথা বলে ছাত্রীর বাড়ি থেকে সোনার গয়না লুটের চেষ্টা করে এই সাঁতার প্রশিক্ষক। নাবালিকা বাধা দিলে তাকে শ্বাসরোধ ও অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করে লুটের গয়না নিয়ে চম্পট দেয় সে। এই অভিযোগে বুধবার দুপুরে সন্দীপ সাউ নামে ওই সাঁতার প্রশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। মঙ্গলবার দুপুরে চিৎপুর থানা এলাকার কাশীপুর রোডের এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। হাসপাতালের বেডে শুয়ে ওই ছাত্রী গোটা ঘটনার কথা জানায়। এমনকী, অভিযুক্ত শিক্ষকের ছবি এঁকে দেয় সে। তারপরই সন্দীপকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তাকে জেরা করে লুটের গয়না উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর দশেকের ওই ছাত্রীকে হেদুয়ায় সাঁতার শেখাতে নিয়ে যান তার মা। অনেকদিন ধরে প্রশিক্ষণ নেওয়ায় প্রশিক্ষকের সঙ্গে ভালোরকম ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল নাবালিকার পরিবারের। মাঝেমধ্যেই ছাত্রীর বাড়িতে আনাগোনা ছিল তার। সেই সুবাদে সে জেনে যায়, ছাত্রীর বাড়িতে কোথায় তাদের টাকাপয়সা ও সোনার গয়না রাখা থাকে। এরপরই অভিযুক্ত প্রশিক্ষক সেখান থেকে গয়না হাতানোর পরিকল্পনা করে। কথায় কথায় জেনে নেয়, মঙ্গলবার কোনও কারণে বাড়িতে থাকবেন না ছাত্রীর মা। বাবাও নিয়মমাফিক কাজে বেরিয়ে যাবেন। সেই সুযোগে এদিন দুপুরে ওই ফ্ল্যাটে হাজির হয় সে। শিক্ষককে দেখে দরজা খুলে দেয় ছাত্রী। ঘরে ঢুকে সন্দীপ বলে, তার বাবা অসুস্থ। চিকিৎসার জন্য বাইরে নিয়ে যেতে হবে ফ্লাইটে। তার জন্য অনেক টাকাপয়সা লাগবে। তার মায়ের সঙ্গে কথা হয়ে গিয়েছে। বাড়িতে থাকা সোনার গয়না তাকে নিয়ে যেতে বলেছে তার মা। এই পর্যন্ত বলে ছাত্রীকে আলমারির চাবি দিতে বলে সন্দীপ। চাবি পেয়ে সব সোনার গয়না হাতিয়ে নেয়। এতক্ষণে নাবালিকার কিছু সন্দেহ হওয়ায় সে বাধা দেয়। তখন ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে সন্দীপ। অভিযোগ, সে প্রথমে তার ছাত্রীকে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে রান্নাঘর থেকে ছুরি এনে তার গলায় আঘাত করে। মেয়েটি অচৈতন্য হয়ে পড়লে চম্পট দেয় অভিযুক্ত। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলে তার আর্তনাদে পাশের ফ্ল্যাট থেকে এক মহিলা ছুটে আসেন। দেখেন, ঘর রক্তে ভেসে যাচ্ছে। তিনিই মেয়েটির মাকে খবর দেন। গুরুতর জখম নাবালিকাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে আসে পুলিস। সেখানেই জখম ছাত্রী সব ঘটনা জানায় পুলিসকে। কথা বলতে কষ্ট হওয়ায় ছবি এঁকে ও লিখে ঘটনার কথা জানায় সে। এরপরই অভিযুক্তকে ধরতে তদন্তে নামে পুলিস। শেষে উত্তর কলকাতা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ