Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্প্যানিশ মায়ের সঙ্গে মাদ্রিদে পাড়ি আসানসোলের মিষ্টির

স্প্যানিশ মায়ের সঙ্গে মাদ্রিদে পাড়ি আসানসোলের মিষ্টির
  • ৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: সাড়ে সাত মাসে ভূমিষ্ঠ হওয়া ‘প্রিম্যাচিওর বেবি’। চোখ সহ শরীরের একাধিক অঙ্গ বিকল। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সেই কন্যা পরিবারের বোঝা হয়ে উঠেছিল। মাত্র সাতদিনের শিশুকে প্রশাসনের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বাবা-মা। সেই কন্যা বিদেশে যাবে। সৌজন্যে এক স্প্যানিশ মা। বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের স্কুলে পড়ান তিনি। মাদ্রিদের বছর ৪৫-এর ওই শিক্ষিকা পশ্চিম বর্ধমানের ‘মিষ্টি’কে দত্তক নিলেন। মাত্র দেড় বছরের মিষ্টির পাসপোর্ট তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কয়েকদিন পরই অন্য জীবনে পা দেবে সে। দেড় বছর ধরে হোমের দিদি, প্রশাসনিক কর্তাদের আদরে মানুষ হয়েছে মিষ্টি। সে বিদেশে চলে যাবে জানতে পেরে মন খারাপ প্রশাসনিক কর্মী থেকে আধিকারিকদের। 

Advertisement

২০২৩সালের শেষ দিকে জন্ম মিষ্টির। বাবা-মা আর্থিকভাবে সচ্ছল নয়। বেসরকারি কারখানায় কাজ করা বাবা বুঝেছিলেন, এই মেয়েকে সুস্থ করে তোলা তাঁদের সাধ্যের বাইরে। পশ্চিম বর্ধমান চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির হাতে নিজেদের সন্তানকে তুলে দেন তার বাবা-মা। মাত্র সাতদিনের অসুস্থ কন্যা সন্তানকে দ্রুত হোমে পাঠিয়ে চিকিৎসা শুরু করে ডিস্ট্রিক্ট চাইল্ড প্রোটেকশন ইউনিট। কলকাতায় তার চিকিৎসা শুরু হয়। চিকিৎসায় সাড়া দেয় খুদে মিষ্টি। নিজেদের সন্তানের মতো করেই মানুষ করতে থাকেন হোম ও প্রশাসনের কর্মীরা। 
মিষ্টির ছবি সহ বিস্তারিত তথ্য পোর্টালে আপলোড করা হয়। যাতে সহৃদয় কেউ তাকে দত্তক নিতে পারেন। নিয়ম অনুযায়ী ঩এদেশের একমাত্র বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদেরই বিদেশের কেউ দত্তক নিতে পারেন। সেই নিয়ম অনুযায়ী বিদেশিরাও মিষ্টির তথ্য দেখতে পান। আগ্রহী হন স্প্যানিশ শিক্ষিকা পেট্রসিয়াস। তিনি নিজে মাদ্রিদ শহরের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষিকা। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের পড়ান। তাদের পড়াতে পড়াতেই অবিবাহিত পেট্রসিয়াস মাতৃত্বের টান অনুভব করেন। তারপর থেকেই তিনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কন্যাসন্তানই দত্তক নেবেন বলে ঠিক করেন। তখনই মিষ্টির হদিশ পান। দু’দেশের মধ্যে দত্তক নেওয়ার সব নিয়মকানুন মেনে কাগজপত্র ঠিক করতে কয়েক মাস পেরিয়ে যায়। স্প্যানিশ ওই মহিলা আদৌ চিকিৎসা করিয়ে মিষ্টিকে ভালো রাখতে পারবেন কি না সেব্যাপারে সবরকম তদন্ত করে জেলা প্রশাসন। ভার্চুয়াল মাধ্যমে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে রীতিমতো পরীক্ষা দিতে হয়। অবশেষে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।  
অতিরিক্ত জেলাশাসক সঞ্জয় পাল বলেন, আমাদের এক কন্যাসন্তানকে দত্তক নিয়েছেন স্প্যানিশ মহিলা। সে দ্রুত বিশেষে পাড়ি দেবে। প্রশাসনের দাবি, মেয়েটির বাবা-মা তাকে মানুষ করতে না পারায় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁদের সন্তানটি উন্নত জীবব পেতে চলেছে। সন্তানের অভাব পূরণ করার জন্য কোনও শিশুকে গোপনে কেনার প্রয়োজন নেই। নিঃসন্তান বাবা-মা সন্তান পেতে চাইলে বৈধভাবে দত্তক নিতে হবে, বার্তা দিয়েছেন প্রশাসনিক কর্তারা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ