ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: স্বাস্থ্যসাথীর কার্ডে চিকিৎসায় কোনও কারচুপি হচ্ছে কি না, তার উপর সারাক্ষণ নজরদারি চালাচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টালিজেন্স বা এআই। কোনওভাবে ‘জল মেশানোর’ চেষ্টা হলেই ধরে ফেলবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। সুতরাং, কোনও হাসপাতাল বা নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ যেন এনিয়ে কারচুপি করার চেষ্টা না করে। স্বাস্থ্যসাথীতে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে কোনওভাবে মিথ্যে বললে কিংবা ভুল তথ্য দিলে অভিযুক্ত হাসপাতাল বা নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেবে রাজ্য। মঙ্গলবার জলপাইগুড়িতে বৈঠকে এমনই বার্তা দেন রাজ্যের অতিরিক্ত স্বাস্থ্যসচিব তথা স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে রাজ্যের নোডাল অফিসার তুষারকান্তি পাঠক। বৈঠকে শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ির বেসরকারি হাসপাতাল এবং নার্সিংহোমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকলেও গোটা উত্তরবঙ্গের নার্সিংহোম ও হাসপাতালের উদ্দেশে ওই বার্তা দেওয়া হয়।
জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রের খবর,এদিনের বৈঠকে উপস্থিত রাজ্যের ওই স্বাস্থ্যকর্তা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, স্বাস্থ্যসাথীর কার্ডে চিকিৎসা পাওয়া কোনও রোগীর ছুটির সময় তাঁর অভিজ্ঞতা ভিডিও রেকর্ডিং করতে হবে। ওই ভিডিওতে রোগী বলবেন,এই কার্ডে চিকিৎসা করাতে গিয়ে তাঁকে কোনওভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে কি না। সেই ভিডিও নির্দিষ্ট পোর্টালে বাধ্যতামূলকভাবে আপলোড করতে হবে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। যদি কোনওক্ষেত্রে এমন হয় যে, একজন রোগীকে হয়তো স্বাস্থ্যসাথীর কার্ডে চিকিৎসা পেতে হয়রানির শিকার কিংবা কোনও খারাপ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছে,কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে ভয় দেখিয়ে কিংবা জোর করে উল্টোটা বলিয়ে নিয়েছে। সেক্ষেত্রে ভিডিও রেকর্ডিংয়ে রোগীর মুখের অভিব্যক্তি কিংবা বলার ধরন দেখে এআই টুল জানিয়ে দেবে, ওই রোগী যা বলছেন তিনি তা স্বেচ্ছায় বলছেন নাকি ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁকে দিয়ে ওইসব কথা বলানো হচ্ছে। এআই টুলের মাধ্যমে ভিডিও রেকর্ডিংয়ে সংশ্লিষ্ট রোগীর বক্তব্যের ‘সেন্টিমেন্টাল অ্যানালিসিস’ করা হচ্ছে। একটু এদিক ওদিক হলেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সঙ্কেত দেবে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কিংবা নার্সিংহোমকে স্ক্যানারে নিয়ে এসে তদন্ত করবে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর। অতিরিক্ত স্বাস্থ্যসচিব বলেন,স্বাস্থ্যসাথীর কার্ডে চিকিৎসা নিতে এসে কোনও রোগীকে যাতে ফিরতে না হয় কিংবা খারাপ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে না হয়, সেটাই বলা হয়েছে এদিন। এছাড়া বেশকিছু বিষয় নিয়ে রিভিউ করা হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে উত্তরবঙ্গের নার্সিংহোমগুলিকে সজাগ করতে বেশকিছু ঘটনা তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, উত্তর দিনাজপুরের একটি নার্সিংহোম স্বাস্থ্যসাথীর কার্ডে চিকিৎসা হওয়া কোনও রোগীকে দামী একটি অ্যান্টিবায়োটিক ইঞ্জেকশন ৩২ বার দিয়েছে বলে উল্লেখ করেছে! নজরে এসেছে, কোনও এক চিকিৎসক উত্তরবঙ্গে যখন ওটি করছেন, তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেই চিকিৎসক বাঁকুড়াতে অপারেশন করছেন। কীভাবে এটা সম্ভব? সাধারণভাবে একজন রোগীর ডায়ালিসিস করাতে কমপক্ষে সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় লাগার কথা। অথচ, দেড় ঘণ্টাতেও ডায়ালিসিস শেষ করে দেওয়া হয়েছে। রোগীর জন্য নার্সিংহোমের তরফে এমন চিকিৎসককে এনগেজ করা হয়েছে, যে চিকিৎসক জানিয়েছেন, তিনি ওই নার্সিংহোমের সঙ্গে যুক্ত নন। রোগীর ছুটির সময় কাগজপত্রে চিকিৎসকের সই নকলের অভিযোগও উঠেছে।