নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি ও সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: খেলার মাঠে লড়াই করে স্বপ্না বর্মন যেভাবে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন, রাজগঞ্জের মাটিকেও সেভাবেই গর্বিত করবেন তিনি। রাজগঞ্জের মাটিতে সোনা ফলাবেন স্বপ্না। সোমবার বেলাকোবায় নির্বাচনি জনসভায় যোগ দিয়ে এমনটাই বললেন তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ।
রাজগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্নার সমর্থনে জনসভায় মহিলাদের জনজোয়ার দেখে উচ্ছ্বসিত সায়নী বলেন, প্রখর রোদেও মহিলাদের এই বিপুল উপস্থিতি প্রমাণ করছে, রাজগঞ্জে আমাদের প্রার্থী জিতে গিয়েছেন। আমার কথা মিলিয়ে নেবেন, স্বপ্নাকে ভোট দিয়ে বিধানসভায় পাঠান। দেখবেন ‘সোনার মেয়ে’ আপনাদের মাথা উঁচু করবেন। রাজগঞ্জের নাম উজ্জ্বল করবেন।
রাজগঞ্জের পর জলপাইগুড়ির সুকান্তনগরে তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ দাসের সমর্থনে জনসভা করেন সায়নী। সেখানে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে একহাত নিয়ে তাঁর আক্রমণ, একজন দুর্নীতিগ্রস্ত মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আবার বড়ো বড়ো কথা বলছেন। ওঁকে বলব, আগে নিজের রাজ্য অসম সামলান। তারপর বাংলা নিয়ে ভাববেন।
জলপাইগুড়িতে প্রচারে এসে হিমন্ত বিশ্বশর্মার ‘গুলি চালানো’র হুমকি প্রসঙ্গে সভা শেষে প্রশ্নের উত্তরে সায়নী বলেন, ওসব উত্তরপ্রদেশের ভাষা। বাংলায় গুলি নয়, গান (সংগীত) চলে। উত্তরপ্রদেশের ভাষায় কথা বললে বাংলার মানুষ মেনে নেবে না।
গত রবিবার জলপাইগুড়ির মণ্ডলঘাট মোড় সংলগ্ন নারায়ণপুরে নির্বাচনি জনসভায় যোগ দিয়ে অসমের মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভাষণে ‘গুলি চালানো’র হুমকি দেন। বলেন, আমার বিরুদ্ধে এখানে নাকি থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বাংলায় যেমন থানা আছে, অসমেও রয়েছে। আমার দিকে একটা গুলি চললে, দু’টো চালাব। হিমন্তর এহেন মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ছড়ায়। কেন তিনি আচমকা গুলির প্রসঙ্গ টানলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
জলপাইগুড়ির পর ময়নাগুড়িতে দলীয় প্রার্থী রামমোহন রায়ের সমর্থনে প্রচারে যান সায়নী। সাপ্টিবাড়ি-২ নম্বর পঞ্চায়েতে জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে জল্পেশ মন্দিরের সামনে গাড়ি থেকে নেমে প্রণাম করেন। সায়নীকে দেখতে ভিড় জমান প্রচুর মানুষ। তাঁদের সঙ্গে হাত মেলান তৃণমূল সাংসদ। ছবি তোলেন। কর্মী-সমর্থকদের আবদার মেটাতে গানও করেন তিনি।
রাজগঞ্জ হোক কিংবা জলপাইগুড়ি, ময়নাগুড়ি, সর্বত্রই কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারকে বিঁধে সায়নীর তোপ, বাংলার মানুষ আপনাদের কাছে কখনও বশ্যতা স্বীকার করবে না। ধর্ম, জাতপাতের ভিত্তিতে বাংলার মানুষকে ভাগ করা যাবে না। আপনাদের জমিদারি শেষ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার পর দিল্লি দখল করবেন। দেশ চালাবেন তিনিই। • ময়নাগুড়িতে রামমোহন রায়ের সমর্থনে প্রচারে সায়নী। - নিজস্ব চিত্র।