Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

স্বামীজি

স্বামীজি
  • ২৪ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ভারতবাসীর উন্নতি সাধনে ভারতের কল্যাণকল্পে বিবেকানন্দ তিল তিল ক’রে আত্মাহুতি দিয়ে গেছেন তাঁর মহাজীবন। দেশবাসীকে তাই বিবেক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করা সত্যানন্দদেবের ছিল আজীবন মহতী প্রচেষ্টা। তাঁর আশ্রমের সব উৎসবগুলি ‘দীয়তাং ভুজ্যতাম্‌’ রবে, নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যস্তচঞ্চলতায়, অগণিত ভক্ত সমাগমে আনন্দ হৈচৈ-তে সরগরম থাকে। একমাত্র স্বামী বিবেকানন্দের তিথি উৎসবটি শ্রীঠাকুর দিব্যভাব-গম্ভীর শুচিশুদ্ধ শান্ত সমাহিত পরিবেশে তপস্যালীন হয়ে স্বামীজির স্মরণ-মননের মাধ্যমে উদ্‌যাপিত করার ব্যবস্থা করেন। এই উৎসবের প্রতি বছরের কর্মযজ্ঞ-সূচী মোটামুটি এই রকম—সকালে মাঙ্গলিক আরতি ও বিবেকপ্রশস্তি সঙ্গীত নিবেদন, মধ্যাহ্নে বিশেষ পূজা ও আরতি—এটি শ্রীঠাকুর নিজে করতেন। এরপর সমবেত সঙ্গীত। রাত্রে শাস্ত্রগ্রন্থাদি এবং স্বামীজির বাণীগ্রন্থাদি পাঠ ও আলোচনা। আলোচনা শ্রীঠাকুর স্বয়ং করতেন। স্বামীজির জ্বলন্ত জীবনমন্ত্র ছিল ত্যাগ ও সেবা। তারই প্রতীক—পূত পবিত্র হোমাগ্নি। তাই বিশ্বকল্যাণে ২৪ ঘণ্টা অখণ্ড হোমানুষ্ঠান এই উৎসবের একটি বিশেষ অঙ্গস্বরূপ। স্বামীজির তপস্যার আদর্শ স্মরণে এ দিনের আর একটি বিশেষ অনুষ্ঠান—মধ্যরাত্রে গঙ্গাবক্ষে বুক জলে দাঁড়িয়ে আধঘণ্টা নামগান করা—যার বিশদ বিবরণ স্মৃতিচারণ রূপে প্রথমেই তুলে ধরা হয়েছে।
তপস্যার প্রেরণা দানের জন্য স্বামীজির দৃষ্টান্ত তুলে ধরে ত্যাগী সন্তানদের বলতেন ঠাকুর—‘দেখ, জীবনে দুঃখ না পেলে কষ্ট না করলে মহৎ মানুষ তৈরী হয় না। স্বামীজি কত কষ্ট পেয়েছেন। একবার তিন দিন না খেয়ে অজ্ঞান হয়ে যান, শেষে এক ফকিরের দেওয়া একটি শশা খেয়ে সুস্থ হন। তারপর দেখ, তখনকার সমাজের বি. এ. পাশ ছেলে—একটা চাকরি পাচ্ছেন না, কত কষ্ট সহ্য করছেন, অথচ বঙ্কিমচন্দ্র প্রমুখ বি. এ. পাশ করেই ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট হয়ে কত উপার্জন করেছেন। এই বরানগরেই স্বামীজি ঠাকুরের নির্দেশে ভিক্ষায় বেরিয়ে কত গালিগালাজ শুনেছেন। তখনকার সেই কষ্টের ফল, দেখ, আজ ফলছে—মঠে লক্ষ লক্ষ টাকা আসছে, কত দীনদুঃখী, আর্ত্তনারায়ণ, ছাত্রনারায়ণ এখন সাহায্য পেয়ে ধন্য হচ্ছে। এসব ওই স্বামীজি বা স্বামীজিদের কষ্ট পাওয়ার ও তপস্যার ফল। কাজেই তোমরা সর্বোপরি পবিত্রতা বজায় রাখবে আর তপস্যা ক’রে যাবে, দেখবে সব ঠিক হয়ে যাবে।’
আবার শুধু তপস্যামগ্ন হয়ে থাকাও অভিপ্রেত ছিল না সত্যানন্দদেবের। এক্ষেত্রেও স্বামীজির আদর্শকে তিনি বাস্তবায়িত করেছেন। তপস্যা-পাগল এক সন্তানের উদ্দেশ্যে বলছেন, “দেখ, তপস্যা তো করতেই হবে এবং করবেই। এ বিষয়ে আমার ঝোঁক তোমরা জান, কিন্তু ঠাকুরের কাজও অবহেলা করবে না। আমাদের স্বামীজির কর্মপন্থা নিতেই হবে। যে যুগের যিনি অবতার তাঁর যে কর্মধারা তার থেকে সরে এলে চলবে না। ঠাকুর যাঁকে ‘নরেন লোক শিক্ষা দিবে’ ব’লে লিখে দিয়ে, লোকশিক্ষার ভার দিয়ে গেলেন, তিনি ঠিক বর্তমানে যেমনটি প্রয়োজন সেই ধারা চালু ক’রে গেছেন। কাজেই এইসব সঙ্ঘে থেকে কাজ করবো না একথা বলা চলবে না। 

Advertisement


স্বামী হীরানন্দের ‘আলোর দেবতা সত্যানন্দ’ থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ