মাদ্রাজ হয়ে ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দের ২৮ জানুয়ারি জাহাজ কলকাতার বন্দরে এসে তার শেষ গন্তব্যস্থলে পৌঁছল। স্বামী বিবেকানন্দ মার্গারেটকে অভ্যর্থনা করবার জন্য জেটিতে অপেক্ষা করছিলেন। তাঁকে দেখে মার্গারেট অনেক আশ্বস্তবোধ করলেন। এই অপরিচিত দেশে তখন একমাত্র স্বামীজীই তাঁর পরিচিত। কলকাতার চৌরঙ্গী অঞ্চলের এক হোটেলে মার্গারেট প্রথমে অবস্থান করেন। স্বামীজী তাঁর বাংলা শেখার ব্যবস্থা করলেন। কলকাতার দ্রষ্টব্য স্থানগুলি দেখা হল—মিউজিয়াম, ফোর্ট, বটানিক্যাল গার্ডেন ইত্যাদি। তখনকার চৌরঙ্গীর সঙ্গে বর্তমান চৌরঙ্গীর বহু পার্থক্য। তখন ওই অঞ্চল জন-বিরল, পরিষ্কার, সুসজ্জিত ইংরেজ-পল্লি। চৌরঙ্গী দেখে প্রকৃত কলকাতা ও তার অধিবাসীদের অবস্থা হৃদয়ঙ্গম করা সম্ভব ছিল না। মার্গারেট এসেছেন এদেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে। তাঁর উৎসাহ ইংরেজ-পল্লিতে নয়, ‘নেটিভ পাড়ায়’। তাই তিনি একলাই ঘোড়ার গাড়ি করে ওইগুলি আবিষ্কার এবং ভারতবাসীদের জীবনযাত্রা সম্বন্ধে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতেন। ওই বছরেই ৮ ফেব্রুয়ারি আরও দুজন পাশ্চাত্য মহিলা মিসেস সারা বুল ও মিস জোসেফিন ম্যাকলাউড আসেন ভারত-ভ্রমণের উদ্দেশ্যে। মঠ তখন বেলুড়ে নীলাম্বর মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে। বর্তমান বেলুড় মঠের জমি কেনার পর গঙ্গাতীরে অবস্থিত পুরোনো বাড়িটির কিছু কিছু সংস্কার করা হয় এবং মিসেস বুল ও মিস ম্যাকলাউডের সঙ্গে মার্গারেট কিছুদিন ওই বাড়িতে বাস করেন। মিসেস সারা বুল ছিলেন নরওয়েবাসী বিখ্যাত বেহালাবাদক ওলি বুলের স্ত্রী। আমেরিকায় বস্টন শহরে এঁর বাড়িতে স্বামীজী আতিথ্যগ্রহণ করেন। বেদান্ত-প্রচারকার্যে তিনি স্বামীজীকে বহু সাহায্য করেন। পরে বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক জগদীশচন্দ্র বসুর বিজ্ঞান গবেষণার কাজেও নানাভাবে সাহায্য করেছিলেন। স্বামীজী তাঁর নাম দিয়েছিলেন ‘ধীরামাতা’ এবং ‘মা’ বলে তাঁকে সম্বোধন করতেন। মিস জোসেফিন ম্যাকলাউড ছিলেন স্বামীজীর পরম সুহৃদ। স্বামীজী তাঁর নাম রেখেছিলেন ‘জয়া’ এবং পত্রে বহু সময় ‘জো’ বলে সম্বোধন করতেন। ভারতে আগমনের পর মিস ম্যাকলাউড স্বামীজীকে একদিন জিজ্ঞাসা করেন, “স্বামীজী, কীভাবে আমি আপনাকে সাহায্য করতে পারি?” স্বামীজী তৎক্ষণাৎ উত্তর দেন “ভারতবর্ষকে ভালবাসো”।


