নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিভিন্ন খাবারে মেশানো হচ্ছে ক্ষতিকারক রং। সবজি, মাছ প্রভৃতি তাজা দেখানোর জন্য যে রং ব্যবহার হচ্ছে, ওটা বিষ। সেটা ব্যবহার করা যায় না। নিষিদ্ধ রং দেওয়া হচ্ছে মিষ্টিতেও। অন্যায় মুনাফার লোভে ব্যবসায়ীদের একাংশ এই কাজ করছেন। এসব ব্যাপারে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার, ধর্মতলায় হগ মার্কেটের সামনে উপভোক্তা অধিকার সুরক্ষা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, অল্প কিছু পুলিশ আধিকারিক, কনজিউমার অফিসার, ফুড ইনস্পেক্টরদের একাংশ এসবের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। আগে গোটা ব্যবস্থায় পচন ধরে গিয়েছিল। এদিনের অনুষ্ঠানের উপস্থিত ছিলেন ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁও।
১-৭ সেপ্টেম্বর উপভোক্তা অধিকার সুরক্ষা সপ্তাহ পালন করা হচ্ছে। সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে পৃথক প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে দেওয়া হয়েছে একাধিক নির্দেশ। উপভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে রাজ্য সরকারের ই-জাগৃতি পোর্টাল মারফত উপভোক্তা কমিশনে অভিযোগ জানানো যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত ক্রেতা উপভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনে নিখরচায় মামলা দায়ের করতে পারবেন। মামলা চালাতে সাহায্য করবে জেলার উপভোক্তা সহায়তা বুরো। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, হঠাৎই চিনি দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। ব্যবস্থাক্রমে পরে দাম কমেছে। তবে, চালের দামবৃদ্ধি নিয়ে সন্দিহান তিনি।
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কিংবা পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী কোনোদিন ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের কোনো কর্মসূচিতে গিয়েছেন বলে তাঁর মনে পড়ছে না। এমনটাও দাবি করেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, এই দপ্তর অবহেলিত। কিন্তু, এই দপ্তরের সঙ্গে লক্ষ লক্ষ মানুষ যুক্ত। প্রতিদিন আনাজ কিনতে গিয়ে মানুষ ঠকছেন। রাজ্যজুড়ে ফ্ল্যাট কেনাবেচার যে প্রতারণা চলছে, সেটা কত বড়ো মাপের দুর্নীতি, সল্টলেক বিজেপি দপ্তরে আয়োজিত জনতার দরবারেই তার প্রমাণ মেলে। প্রতিদিন বিজ্ঞাপন দিয়ে ফ্ল্যাট বুকিংয়ে যেভাবে প্রতারণা করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা ছিল না। উদাহরণ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিধাননগর পুলিশ দশদিন আগে নিউটাউনে একটি ঘরে রেইড করে। খাবার ডেলিভারি অ্যাপের ১২০ জনকে পাওয়া গিয়েছে। তারা টাকাসমেত ফলস বুকিং নিচ্ছে কিন্তু মাল দিচ্ছে না। তাই এসব নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাকে সচেতন এবং সুরক্ষা দেওয়া করা দরকার।