নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: কর্মীদের বেতন বকেয়া ছিল দু’মাসের। অথচ, মিলেছে মাত্র ১৫ দিনের। তার উপর ইচ্ছেমতো বদলি করা হচ্ছে কর্মীদের। মাইনে না পাওয়া ও মর্জিমাফিক বদলির প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে উত্তর দমদম পুরসভার অস্থায়ী কর্মীরা আন্দোলনে নামলেন। পুরসভার গেটের সামনে থালা রেখে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা। পুর প্রশাসককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। নিমতা থানার পুলিশ পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশ তাঁদের বলপ্রয়োগ করে সরিয়েছে। যদিও পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুরসভা কর্তৃপক্ষ কর্মীদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।
উত্তর দমদম পুরসভার বোর্ড ভাঙার পর প্রশাসক বসেছে। কিন্তু পুরসভার হাঁড়ির হাল দেখে সরকারি আধিকারিকদের ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা। অভিযোগ, ইচ্ছেমতো অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। তার উপর নিয়ম ভেঙে একের পর এক কাজের বরাত দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গত দু’মাস ধরে প্রায় ১,২০০ অস্থায়ী কর্মী বেতন পাচ্ছিলেন না। ৩১ আগস্ট তাঁদের মাত্র ১৫ দিনের বেতন দেওয়া হয়েছে। বাকি রাখা হয়েছে ৪৫ দিনের বেতন। ফলে সামান্য বেতন পাওয়া অস্থায়ী কর্মীরা তীব্র বিপাকে পড়েছেন। শুধু তাই নয়, কর্মীদের অভিযোগ, বিভিন্ন দপ্তর থেকে অস্থায়ী কর্মীদের ইচ্ছেমতো বদলি করা হচ্ছে। হাসপাতালে আট বছর কাজ করা মহিলা কর্মীকে ড্রেন পরিষ্কারের কাজ দেওয়া হচ্ছে। ফলে অস্থায়ী কর্মীদের ক্ষোভ চরম আকার নিয়েছে। এদিন সকাল থেকে তাঁরা কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পুরসভার গেটের সামনে থালা হাতে বসেন। প্রশাসক পুরসভায় ঢোকার সময় তাঁকে ঘিরে ধরে তীব্র বিক্ষোভ দেখানো হয়। পরে পুলিশ এসে অবস্থান বিক্ষোভ তুলে দেয়। উত্তর দমদমের সিপিএম নেতা শিবশঙ্কর ঘোষ বলেন, পুলিশ কার্যত গায়ের জোরে আন্দোলনকারীদের হটিয়ে দেয়। মাইকের তার ছিঁড়ে দেওয়ার পাশাপাশি মহিলাদের ধাক্কা দেয়। ঘটনার
ভিডিয়ো তুলতে বাধা দেয়। এইভাবে পুলিশ দিয়ে আন্দোলন দমানো যাবে না। দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলন হবে।