বয়সের কারণে মমতাকে বিশ্রামের পরামর্শ শুভেন্দুর
  • ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বয়সের প্রসঙ্গ টেনে এনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘রাজনৈতিক বিশ্রামের’ পরামর্শ দিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই বক্তব্য সামনে আসার পর পালটা জবাব দিয়েছেন কালীঘাটপন্থীরা। যদিও তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের নেতারা সমর্থন করেছেন শুভেন্দুর বক্তব্যকেই।

Advertisement

বুধবার বিধানসভায় বিধায়ক হিসাবে শপথ নেন উপনির্বাচনে জয়ী নন্দীগ্রাম থেকে হাসিরানি রথ এবং রেজিনগর থেকে শাখারভ সরকার। তাঁদের শপথগ্রহণ পর্বে বিধানসভার অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবনির্বাচিত দুজনকে শুভেচ্ছাজ্ঞাপন করেন তিনি।
বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুটি আসনেই নির্বাচিত হন শুভেন্দু। পরিষদীয় রীতি মেনে পরে নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছেড়ে দেন তিনি। কিন্তু ভবানীপুরের বিধায়ক পদটি রেখে দিলেন কেন, এদিনই বিষয়টি স্পষ্ট করেন শুভেন্দু। 
ভবানীপুর কেন্দ্রে তাঁর কাছে পরাজিত হন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই শুভেন্দু বলেন, উনি (মমতা) আমার কাছে দুবার হেরেছেন। আমি যদি নন্দীগ্রামের বদলে ভবানীপুর ছাড়তাম, তাহলে উনি আবার ভোটে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়ে যেতেন। এই সুযোগ ওঁকে না দেওয়াই ভালো। আর ওঁর অনেক বয়স হয়েছে—প্রায় ৭৫। এই বয়সে ওঁর বিশ্রাম নেওয়ার কথা।
মমতাকে ‘রাজনৈতিক বিশ্রামের’ কথা বলায় শুভেন্দুর মন্তব্যে তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে। মমতাপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ তির্যক মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য, একজন মহিলা সম্পর্কে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ‘কুরুচিকর, অসম্মানজনক’ মন্তব্য করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুরোদস্তুর ফিট রয়েছেন। আমার মনে হয়, অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করে আসার পরই শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য অন্য কাউকে নিশানা করে। নরেন্দ্র মোদিকে অবসরের পথে ঠেলে দেওয়াটা অমিত শাহ শিবিরের লাইন। 
শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য নিয়ে মমতাকে নিশানা করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, ভোটে শোচনীয় পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন তিনি নাকি হারেননি। কখনো বলেছেন, ১৮০টি আসনেই জিতেছেন। কখনো দাবি করেছেন, জিতেছেন ২৩০টি আসনে! আমার মনে হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডাক্তার দেখানো উচিত।
অন্যদিকে, সংখ্যালঘুঅধ্যুষিত রেজিনগরে বিজেপির প্রতি মানুষের বিপুল সমর্থন দেখে উচ্ছ্বসিত মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বিজেপিকে ‘সাম্প্রদায়িক’ তকমা দেওয়া হত। কিন্তু সংখ্যালঘুঅধ্যুষিত এলাকাতেও আমরা মানুষের আস্থা অর্জন করতে পেরেছি। তিনি আরও বলেন, মাত্র ছয় মাস হতে চলল। আমাদের সরকারকে সাধারণ মানুষ দেখছেন। সবে চা-বিস্কুটের সময়। এখনো ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ বাকি। দেখতে থাকুন আমরা কীভাবে এগোচ্ছি...।
পাশাপাশি চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় সুপারি কিলারকে দেওয়া দুই কোটি টাকা কালীঘাট, ক্যামাক স্ট্রিট, ডায়মন্ডহারবার থেকে এসেছিল কি না, তদন্তে সেসবও উঠে আসবে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।