সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: ওয়াকফ আইন প্রত্যাহারের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে জঙ্গিপুর মহকুমার রঘুনাথগঞ্জ, সূতি সহ সামশেরগঞ্জের একাধিক এলাকা। রঘুনাথগঞ্জের উমরপুর উত্তাল হওয়ার পর কেটে গিয়েছে প্রায় এক সপ্তাহ। রঘুনাথগঞ্জের পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। তেমনটাই দাবি পুলিস প্রশাসন থেকে আমজনতার। সূতির পর সামশেরগঞ্জের অবস্থাও নিয়ন্ত্রণে। ওই দুই এলাকায় একাধিক প্রাণহানির পর নতুন করে আর কোনও সমস্যা হয়নি। এই মুহূর্তে পুলিস ও প্রশাসন তৎপর রয়েছে। রাস্তাঘাটে সাধারণ মানুষের চলাফেরা কম। এদিকে এক সপ্তাহ থেকে মহকুমাজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ বাড়ছে এলাকাবাসীর। ঠিক কবে থেকে ইন্টারনেট পরিষেবা ফের স্বাভাবিক হবে সে বিষয়ে জানতে না পেরে কার্যত হতাশ এলাকার মানুষজন। সাধারণ মানুষ চাইছেন দ্রুত ইন্টারনেট পরিষেবা স্বাভাবিক হোক।
গত সোমবার বিকেলে ওয়াকফ ইস্যুতে উত্তাল হয়ে ওঠে রঘুনাথগঞ্জের উমরপুর। ওয়াকফ আইন প্রত্যাহারের দাবিতে উমরপুরে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক ও জঙ্গিপুর-লালগোলা রাজ্যসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। বিক্ষোভকারীদের হটাতে গেলে পুলিসের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায়। পুলিসকে লক্ষ্য করে চলে ইটবৃষ্টি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিস টিয়ার গ্যাসের সেল ফাটায়। কয়েক রাউন্ড গুলিও চালায় বলে বিক্ষোভকারীদের দাবি। পুলিসের দু’টি গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। তারপর থেকেই শহরে জারি হয় ১৬৩ ধারা। ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। জঙ্গিপুরে তারপর আর কোনও সমস্যা হয়নি। জাতীয় ও রাজ্য সড়ক এমনকী শহরের ছোট বড় দোকানপাট থেকে বাজার হাট সবকিছুই স্বাভাবিক রয়েছে। যদিও গত শুক্রবার সূতির সাজুর মোড় ও সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ান ডাকবাংলোয় একই ইস্যুতে অশান্তি ছড়ায়। সূতিতে একটি সরকারি বাস ও একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। ধুলিয়ানে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখায় আন্দোলনকারীরা। কার্যত ওইদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের দখলে থাকায় জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের হঠাতে গেলে পুলিসের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে পুলিস।