Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সিউড়িতে শুরু টোটোর দৌরাত্ম্য, দখল হয়ে গিয়েছে ফুটপাতও

সিউড়িতে শুরু টোটোর দৌরাত্ম্য, দখল হয়ে গিয়েছে ফুটপাতও
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: ফের শহরের রাস্তায় টোটোর দৌরাত্ম্য শুরু হয়ে গিয়েছে। দখল হয়ে গিয়েছে ফাঁকা ফুটপাত। এতে ক্ষুব্ধ সিউড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান। দখলমুক্ত হয়ে যাওয়া ফুটপাত ফের দখল হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। জেলা প্রশাসনের কাছে তাঁর আর্তি, শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত ও টোটো নিয়ন্ত্রণ করতে কড়া অবস্থান নেওয়া হোক। একার ঘাড়ে দোষ নিতে যে তিনি রাজি নন, তার ইঙ্গিত চেয়ারম্যানের কথাতেই।
Advertisement
চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রী যখন নির্দেশ দিয়েছিলেন তার পরই আমরা দখলমুক্তি শুরু করে দিয়েছিলাম। সিউড়ি সদর হাসপাতালের যানজট মিটিয়ে দিয়েছিলাম। রাস্তার উপর যেসব দোকানপত্র ছিল সেগুলিও উঠিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু আবার ‘যে কে সেই’ হয়ে গেল। মানুষ হাসপাতালে যাওয়ার রাস্তা খুঁজে পায় না। রবীন্দ্রপল্লি থেকে শুরু করে মাদ্রাসা রোড, শহরের সর্বত্র একই সমস্যা। শহরে এত টোটো চলছে যে, মনে হচ্ছে মানুষের সংখ্যা এর থেকে কম। বেশিরভাগটাই গ্রামের টোটো। তাই এবার জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাইছি। পাকাপাকি ব্যবস্থা নেওয়া হোক, না হলে সিউড়ি শহরের যানজট সমস্যা মিটবে না।
জেলার সদর শহরের যানজট সমস্যা এখন অন্যতম মাথাব্যথার কারণ। পুরবোর্ড, প্রশাসক বদলালেও শহরের পরিস্থিতির বদল হয় না। ফুটপাত ও রাস্তার দু’ধার দখল হয়ে রাস্তা অতি সংকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। মানুষের হাঁটার জায়গা নেই। দোকান তো রইয়েছে, সেই সঙ্গে জিনিসপত্র, কাঠ— কী না থাকে রাস্তার উপর। অস্থায়ী ঠেলাগাড়িও সারাদিন ধরেই রাস্তার উপর থেকে যায়। কয়েক সপ্তাহ হল ফের রাস্তার উপর চেয়ার পেতে, ছাউনি করে চায়ের দোকান খুলেছে পুলিস লাইন সংলগ্ন রাস্তায়। পুলিস লাইনের দেওয়াল ঘেঁসে সেই দোকান বসেছে। এছাড়াও কোর্টবাজার, জেলা স্কুল সংলগ্ন দোকান, কলেজরোড, মাদ্রাসারোড, টিকিয়াপাড়া, আরটি গার্লস রোড, রবীন্দ্রপল্লি সবদিকেই একই অবস্থা। সেই সঙ্গে ফুটপাত দখল করে বিক্রি হচ্ছে পুরনো বাইক। সারি দিয়ে কয়েক শ’ বাইক সকাল হলেই ফুটপাতের উপর রাখা হচ্ছে। রবীন্দ্রপল্লির কোথাও কোথাও আবার রাস্তা পর্যন্ত চলে আসছে সেইসব বাইক। মানুষ কীভাবে রাস্তা পেরিয়ে যাবেন তা বুঝতে পারছেন না। কিন্তু না দেখে পুলিস, না প্রশাসন। সবথেকে সমস্যা টোটো চলাচল। মাঝেমধ্যেই টোটো নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে প্রচার করে পুরসভা। সেই মতো জোড়-বিজোড় নম্বরে টোটো চলবে এই দাবি করে টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। কিন্তু তা কেবল শুধু খাতায় কলমে। দেখা যাচ্ছে, সকাল থেকে কয়েক হাজার টোটো নেমে পড়েছে রাস্তায়। বেশকিছু ক্ষেত্রে ফাঁকা টোটো রাস্তায় ঘুরছে। টোটো চালকদের দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছেন শহরবাসী। আবার নাবালকরা এমনভাবে টোটো চালাচ্ছে তাতে দুর্ঘটনাও ঘটছে। হেলদোল নেই কারও। ট্রাফিক পুলিসের উপরও অনেকেই ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন। শহরের দুই বাসিন্দা তন্ময় সাধু, কাকলী মণ্ডল বলেন, শহরে মানুষ কম, টোটো বেশি। রাস্তাঘাটে বাইক চালিয়ে যাওয়া যায় না। জানি না আদৌ কোনওদিন এর সমাধানসূত্র বেরবে কিনা।
সম্পর্কিত সংবাদ