সংবাদদাতা, সাঁইথিয়া: মসজিদ মোড় থেকে টিনবাজার পর্যন্ত, সিউড়ি থেকে সাঁইথিয়া যাবার রাস্তা নিত্যদিন যানজটে অবরুদ্ধ। নিত্যযাত্রী, স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে পথচারী, সকলেই তিতিবিরক্ত। অধিকাংশ সময় যানজটের ফাঁদে আটকে থাকে অ্যাম্বুলেন্স, বাস এমনকী মাঝেমধ্যে যানজটের কারণে আটকে যায় দমকল। তারপর রাস্তার যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকে টোটো, অটো ও মোটরভ্যান। এই যানজটের কারণে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শহরের বাসিন্দারা। সদর শহর সিউড়ি থেকে অন্য এক শহরে যাওয়ার রাস্তা কার্যত অবরুদ্ধ থাকে ব্যস্ত সময়ে। সিউড়ি শহর পুরনো শহর হওয়ায় বেশির ভাগ রাস্তায় সংকীর্ণ। তাই যানজট এখানে নিত্যদিনের সঙ্গী।
Advertisement
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মসজিদ মোড় থেকে টিনবাজার পর্যন্ত রাস্তা অত্যন্ত সংকীর্ণ হওয়ায় যানজটের সমস্যা নিত্যদিনের। ব্যবসায়ীরা রাস্তার ধারেই দোকানের জিনিসপত্র নামিয়ে রাখায় যানজট আরও দীর্ঘ হয়। ফলে এক সঙ্গে দু’টো গাড়ি যাওয়ার জায়গা থাকে না। সিউড়ি থেকে সাঁইথিয়া যাতায়াত করার জন্য প্রায় কয়েকশো মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করেন। এই রাস্তাটি সিউড়ি থেকে সাঁইথিয়া যাওয়ার সহজ এবং অন্যতম পথ। আর সেই পথেই নিত্যদিন সৃষ্টি হয় যানজটের। জানা গিয়েছে, শহরকে যানজটের হাত থেকে মুক্তি দিতে তৈরি করা হয় বাইপাস। কিন্তু সেই রাস্তার ব্যবহার হয় না। মূলত এবিষয়ে প্রশাসনের উদাসীনতাকেই দায়ী করছেন বাসিন্দারা। স্থানীয় এক বাসিন্দা সঞ্জীব হাজরা বলেন, সংকীর্ণ রাস্তায় দু’ধারে দোকানপাট রয়েছে। তারপর আবার যত্রতত্র দাঁড়িয়ে পড়ে অটো টোটো। ফলে ঠিকভাবে সাইকেল, বাইক নিয়ে চলাচল করাই যায় না। এছাড়া মানিক মোড়ের কাছে রাস্তার উপরে দাঁড়িয়ে থাকে টোটো, অটো ও মোটর চালিত ভ্যান। সেই সময় দু’টি গাড়ি একসঙ্গে চলে এলে রাস্তার একপাশে সরে দাঁড়ানোর জায়গাও থাকে না। এই রাস্তা দিয়েই সাঁইথিয়া স্টেট জেনারেল হাসপাতাল থেকে রোগীদের সিউড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্সকেও যানজটের কবলে পড়ে হাঁসফাঁস করতে হয়। সিউড়ি শহরের আশপাশের গ্রামগুলিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে দমকলকে এই রাস্তাটি ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু রাস্তায় যানজট থাকার কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে দেরি হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে এলাকাবাসীর বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাদের। বছর খানেক আগে প্রশাসন ও পুরসভা যৌথভাবে রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য উচ্ছেদ অভিযানে নামে। কিন্তু প্রায় এক বছর হলেও হয়নি উচ্ছেদ। যেখানকার সমস্যা সেখানেই রয়ে গেছে।
সিউড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বলেন, টোটো দাঁড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট জায়গা দেখা হয়েছে। খুব দ্রুত সেটি বাস্তবায়িত হবে। রাস্তায় জিনিসপত্র না রাখার জন্য পুরসভার তরফ থেকে বারবার বলা হয়, দোকানদারদেরও সচেতন হয়ে ব্যবসা করতে হবে।
সিউড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বলেন, টোটো দাঁড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট জায়গা দেখা হয়েছে। খুব দ্রুত সেটি বাস্তবায়িত হবে। রাস্তায় জিনিসপত্র না রাখার জন্য পুরসভার তরফ থেকে বারবার বলা হয়, দোকানদারদেরও সচেতন হয়ে ব্যবসা করতে হবে।



