সংবাদদাতা, সাঁইথিয়া: নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করেই সিউড়ি শহরে প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগের ব্যবহার বেড়ে চলেছে। এর আগে পলিব্যাগ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল সিউড়ি পুরসভা। গত দু’বছর বিভিন্ন বাজারে প্রচার ও অভিযান হয়েছিল। পুরসভার কড়া মনোভাবে ক্রেতা-বিক্রেতারা সচেতন হয়েছিলেন। কিন্তু ধারাবাহিকতার অভাবে এখন শহরে উল্টো ছবি দেখা যাচ্ছে। সিউড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বলেন, প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ বন্ধের বিষয়ে পুরসভার তরফে নিয়মিত প্রচার চলে। তবু আমার কাছে খবর এসেছে, শহরে প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ ব্যবহার হচ্ছে। এবিষয়ে মহকুমা শাসকের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। আমরা ফের পলিব্যাগ বন্ধে পুলিসকে সঙ্গে নিয়ে ময়দানে নামছি। যে সমস্ত ব্যবসায়ীর কাছে প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ পাওয়া যাবে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। সিউড়ির বিভিন্ন বাজার প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগে ছেয়ে গিয়েছে। জেলার অন্য পুর এলাকায় পলিব্যাগ ব্যবহার রুখতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হলেও সিউড়ি পুরসভা কেন উদাসীন-তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সিউড়ির বাসিন্দা শ্যামল চট্টোপাধ্যায় বলেন, বাজারে সব্জি কিনতে গেলে, মিষ্টি ও মুদিখানা দোকানে অবাধে পলিব্যাগ ব্যবহার হচ্ছে। বর্ষার সময় পলিব্যাগের কারণে শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে নিকাশিনালা বন্ধ হয়ে রাস্তার উপরে জল জমে যায়। এতে চারপাশের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই পলিব্যাগ বন্ধে পুরসভা ও প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। অপর বাসিন্দা মনোজ দাস বলেন, দু’বছর আগে শহরের বিভিন্ন বাজারে পুরসভার প্রতিনিধিদলকে ঘুরতে দেখেছি। কিন্তু কী কারনে সেই অভিযান বন্ধ হয়ে গেল-তা বুঝে উঠতে পারিনি। ২০২২ সাল নাগাদ পুরসভার নেতৃত্বে এসপির মোড়, হাসপাতাল মোড়, বাসস্ট্যান্ড, কোর্টবাজার, টিনবাজার সহ নানা জায়গায় ব্যাপক অভিযান চালানো হয়েছিল। বেশ কিছু সব্জি, ফল, মাছ বিক্রেতার কাছ থেকে প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ বাজেয়াপ্ত করা হয়। কিন্তু বাসস্ট্যান্ডে অভিযান করতে গিয়ে পুরকর্মীদের বাধার মুখে পড়তে হয়। এখন খোদ প্রশাসনিক ভবন ও পুরসভার অফিসের পাশে রাস্তার উপর মাছ, সব্জি ও ফল বিক্রেতারা অবাধে ক্রেতাদের নিষিদ্ধ পলিব্যাগ ধরিয়ে দিচ্ছেন।



