সংবাদদাতা, সাঁইথিয়া: শীত শেষে বসন্ত হাজির। মশার দল কিন্তু নাছোড়বান্দা। মশার কামড়ে অতিষ্ঠ সিউড়িবাসী। তাঁদের অভিযোগ, পুরসভা মশা নাশক স্প্রে করছে না। ফলে ডেঙ্গুর আতঙ্কে ভুগছেন শহরবাসী। শীতের মরশুমে তো মশার উপদ্রব ছিলই, শীত যাওয়ার পরে মশার উপদ্রব আরও বেড়েছে। দু’-একদিনের বৃষ্টিতে তা বহুগুণ বেড়েছে। পাশাপাশি অধিকাংশ বাড়িতেই জ্বরসর্দি। শহরের বিভিন্ন ঘিঞ্জি এলাকার নিকাশি নালায় জমে রয়েছে ময়লা জল। যার মধ্যে জন্মাচ্ছে মশার লার্ভা। যার জেরেই শহরে মশা বাড়ছে। সিউড়ি শহরের মানুষের অভিযোগ, চলতি বর্ষার মরশুম ছাড়াও শীতেও মশা নিধনের উদ্যোগ নেয়নি পুরসভা। সিউড়ির সাজানো পল্লি, সমন্বয় পল্লি, রবীন্দ্রপল্লি, ফকিরপাড়া, টিকাপাড়া, বাজারপাড়া, লালকুঠিপাড়া, বড়বাগান, বারুইপাড়া, কেঁন্দুয়া, পুলিস লাইন, লালদিঘি পাড়া, হাটজন বাজার সহ শহরের প্রায় ২১টি ওয়ার্ডেই মশার বাড়বাড়ন্ত। যদিও পুরসভার দাবি, প্রায়দিনই নিকাশি নালা পরিষ্কার করা হয় এবং মশা মারার স্প্রে করা হয়। শহরের বাসিন্দা ইন্দ্রনীল গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, সপ্তাহে হয়তো খুব কমদিন দেখি নিকাশি নালা পরিষ্কার করছে। আর মশা মারার স্প্রে করতে চোখেই পড়ে না। শহরের বেশ কিছু ওয়ার্ডে নিকাশি নালায় জঞ্জাল জমে থাকে। যার ফলে মশা বাড়ছে। সিউড়ি শহরের বেশ কিছু ওয়ার্ডে কাঁদরগুলিও অপরিষ্কার হয়ে রয়েছে। শহরের এক বাসিন্দা বলেন, সিউড়ি পুরসভার কোনও ভালো কাজ আমাদের চোখে পড়ে না। একুশটি ওয়ার্ডের মধ্যে হয়তো খুব কম ওয়ার্ডেই মশা মারার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এমনকী পুরসভাতে গেলেও মশার কামড় সহ্য করতে হয়। সূর্য অস্ত গেলে বাড়ির দরজা জানলা বন্ধ না করলে মশার উপদ্রবে টেকা যায় না। জানলা দরজা খোলা থাকলে তো বলার কিছু নেই। শীতে নিকাশি নালার জল শুকিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু এই দু’-একদিনের ছিটেফোঁটা বৃষ্টিতে মশা আরও বেড়েছে। সিউড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে সপ্তাহে দু’ দিন করে স্প্রে করা হচ্ছে। এছাড়াও কোনও এলাকায় মশার উপদ্রব বেশি হলে সেখানে বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে। আমাদের মূল লক্ষ্য ডেঙ্গু মোকাবিলা। সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে।



