Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সিউড়িতে বর্ষবরণের রাতে বিস্ফোরণে যুবকের মৃত্যু, মোবাইল, ল্যাপটপ উদ্ধার

সিউড়িতে বর্ষবরণের রাতে বিস্ফোরণে যুবকের মৃত্যু, মোবাইল, ল্যাপটপ উদ্ধার
  • ২ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, সিউড়ি: বর্ষবরণের রাতে সিউড়ির কলেজপাড়ায় বিস্ফোরণে এক যুবকের মৃত্যু ঘিরে রহস্য দানা বেঁধেছে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম সুপ্রিয় দাস(৩০)। প্রাথমিক তদন্তে পুলিসের অনুমান, বাজি বিস্ফোরণ হয়েই মৃত্যু হয়েছে ওই যুবকের। তিনি মানসিক অবসাদেও ভুগছিলেন। পরিবারের দাবি, বেশিরভাগ সময়ই কানে মোবাইলের হেডফোন লাগিয়ে রাখতেন ওই যুবক। হেডফোন বিস্ফোরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে কিনা দাবি তুলেছে পরিবার। বর্ষবরণের দিন এমন ঘটনায় মৃতের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 
Advertisement
মঙ্গলবার রাত ২টো নাগাদ বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সিউড়ি থানার আইসি সঞ্চয়ন বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অন্যান্য পুলিসকর্মীরা। বর্ষবরণের রাতে শহরে পুলিসের বিশেষ টহলদারি চলছিল। তাই খবর পাওয়ামাত্র যুবকের বাড়িতে গিয়ে ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পাঠায় পুলিস। তবে কীভাবে যুবকের মৃত্যু তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। পুলিস যুবকের মৃতদেহ উদ্ধারের সময় বাজির বিভিন্ন নমুনা উদ্ধার করেছে। তদন্তের জন্য পুলিস তাঁর ল্যাপটপ ও মোবাইল উদ্ধার করেছে। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই যুবক বিএসসি ও বিএড করার পর চাকরি না পাওয়ায় বাড়িতে টিউশনি পড়াতেন। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চাকরি না পাওয়ায় মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। একা দীর্ঘক্ষণ সময় কাটাতেন। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গেও খুব একটা কথাবার্তা বলতেন না। বিস্ফোরণের পর মৃতদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিস বাজির বেশকিছু নমুনা সংগ্রহ করেছে। ঘরে ঢুকতেই পুলিসকর্মীরা বাজির গন্ধ পান। তা থেকেই পুলিসের অনুমান, বর্ষবরণের সময় বাজি বিস্ফোরণ হয়ে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বিস্ফোরণের জেরে যুবকের মুখমণ্ডলের থুতনির নীচের অংশ ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছে। এই ধরণের বিস্ফোরণ বাজি ছাড়া মোবাইলের হেডফোনে হওয়া সম্ভব নয় বলে প্রাথমিক তদন্তে মনে করছে পুলিস। তাই কীভাবে যুবকের মৃত্যু তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে সিউড়ি থানার পুলিস। 
মৃতের বাবা প্রিয়রঞ্জন দাস বলেন, প্রতিদিনের মতো রাতে খাওয়াদাওয়ার পর ছেলে দোতলার ঘরে ঘুমাতে যায়। মধ্যরাতে বিকট শব্দ পেয়ে আমরা ছুটে যাই। সেসময় ছেলেকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই। ও বেশিরভাগ সময়ই ও মোবাইলের হেডফোন কানে নিয়ে থাকত। মৃতের দাদা সত্যপ্রিয় দাস বলেন, হেডফোন বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে বলে এক পুলিস অফিসারই আমাদের জানিয়েছেন। কীভাবে মৃত্যু পুলিস তদন্ত করে দেখুক। জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, ঘটনার পর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। সেইসঙ্গে ওই যুবকের ল্যাপটপ ও মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। সেগুলি থেকে কোনও সূত্র পাওয়া যায় কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর কীভাবে মৃত্যু বোঝা যাবে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ