নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: সকাল সাড়ে ১০টা পেরিয়ে গেলেও জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক অনন্তকুমার সরকার(৫৪) স্কুলে আসেননি। এরপর স্কুল থেকে একাধিকবার তাঁকে ফোন করা হয়। কোনও উত্তর না মেলায় জনাকয়েক শিক্ষক খোঁজ নিতে অনন্তবাবুর বাড়িতে যান। তাঁরা ওই শিক্ষককে বারবার ডেকেও কোনও সাড়া না মেলায় সিউড়ি থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিস ও দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের জানালা কেটে ওই শিক্ষকের মৃতদেহ উদ্ধার করে। পরে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর দেওয়া ওই শিক্ষকের মুর্শিদাবাদের বাড়িতে। ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যায় শিক্ষকের মৃতদেহ স্কুলে নিয়ে যাওয়া হয়। বৃহস্পতিবারের ওই ঘটনায় স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও পড়ুয়ারা শোকস্তদ্ধ। জানা গিয়েছে, ওই শিক্ষক আদতে মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা হলেও সিউড়ির স্টেশন মোড় এলাকার নিজের বাড়িতে থাকতেন। যদিও তাঁর স্ত্রী ও মা মুর্শিদাবাদেই থাকেন। ওই শিক্ষক স্থানীয় সিউড়ি বাণীমন্দির অমিতারঞ্জন শিক্ষানিকেতনে কর্মরত ছিলেন। সহ শিক্ষকরা জানান, তিনি প্রতিদিনই সময়ে স্কুলে পৌঁছে যেতেন। তবে এদিন সকাল সাড়ে ১০টার পরেও স্কুলে না আসায় তাঁকে ফোন করা হয়। কোনও উত্তর না দেওয়ায় তাঁর বাড়ি যাওয়া হয়। তবে ঘর ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। বারবার ডেকেও কোনও সাড়া না পেয়ে পুলিসে খবর দেওয়া হয়। দমকলের কর্মীরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রথমে ঘরের দরজা ভাঙার চেষ্টা চলে। পরে একতলার ঘরের জানালার গ্রিল কেটে দমকলের কর্মীরা ভিতরে ঢুকে দরজা খোলেন। তারপর শিক্ষকের দেহ উদ্ধার করা হয়।এক শিক্ষক জানিয়েছেন, ঘরের ভিতরে গিয়ে দেখা যায় মেঝেয় পাতা মাদুরের উপর ওই শিক্ষকের নিথর দেহ পড়ে রয়েছে। সেইসঙ্গে ঘরের ফ্যানও চলছে। প্রাথমিক অনুমান স্ট্রোক হয়েই মৃত্যু হয়েছে ওই শিক্ষকের। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অক্ষয়কুমার দাস বলেন, গতকালও অনন্তবাবু স্কুলে এসেছিলেন। তারপর এদিন এই ঘটনা। আমাদের সকলের মন ভারাক্রান্ত। পুলিস জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।



