নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ‘এল নিনো’র প্রভাবে বৃষ্টির ঘাটতি নিয়ে চিন্তায় ছিলেন বাঁকুড়ার চাষিরা। জুন মাসে আশানুরূপ বৃষ্টি না হওয়ায় আমন চাষিরা বিপাকে পড়েন। তবে, জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে নিম্নচাপের বৃষ্টিতে বাঁকুড়ায় ধান রোপণে গতি এসেছে। দফায় দফায় বৃষ্টির জেরে বাঁকুড়ায় আমন চাষ গতবারের মতোই লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গিয়েছে বলে কৃষিদপ্তর জানিয়েছে। এবার ৩ লক্ষ ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল। ইতিমধ্যেই তা ৩ লক্ষ ৭১ হাজার ৫০০ হেক্টর হয়ে গিয়েছে। আশানুরূপ বৃষ্টি হওয়ায় জেলায় আমন চাষের এলাকা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে কৃষিদপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
বাঁকুড়ার উপকৃষি অধিকর্তা দেবকুমার সরকার বলেন, জুলাই মাসে জেলাজুড়ে হালকা-মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে। পরপর নিম্নচাপের জেরে আগস্টে বৃষ্টির ঘাটতি মিটে গিয়েছে। ২০ তারিখ পর্যন্ত আগস্ট মাসে জেলায় ২৭৪.৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। যা গতবারের থেকে প্রায় ৭০ মিলিমিটার বেশি। আমরা ইতিমধ্যেই লক্ষ্যমাত্রাকে ছাপিয়ে গিয়েছি। এখনো কিছু জায়গায় রোপণের কাজ চলছে। জেলায় এবার আমন ধান চাষের এলাকা বেড়ে ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার হেক্টর হতে পারে।
গঙ্গাজলঘাটির খাটা এলাকার বাসিন্দা বিষ্ণু মণ্ডল বলেন, আমাদের এলাকা তুলনামূলক উঁচু। ফলে প্রথম দিকে জলের অভাবে চাষ হয়নি। সম্প্রতি নিম্নচাপের বৃষ্টির জেরে জমিতে লাঙল দেওয়া গিয়েছে। আমরা বৃহস্পতিবার ধান রোপণ করেছি।
উল্লেখ্য, গতবার জেলায় আমনের ব্যাপক চাষ হওয়ায় কৃষকরা এবছর প্রথম থেকেই সক্রিয় ছিলেন। খরার ভ্রূকূটি থাকা সত্ত্বেও তাঁরা আমন চাষের প্রস্তুতি নেন। তার ফলে জেলায় আমনের বীজতলা তৈরির কাজ সময়ে শেষ করা গিয়েছিল। চাষিরা চারা রোপণও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শুরু করে দেন। বেশকিছু জায়গায় তা অবশ্য এখনো বাকি রয়েছে। সেটাও আগামী কয়েকদিনের মধ্যে হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। খড়াপ্রবণ বাঁকুড়ায় এখনো সেভাবে সেচখাল খনন করা যায়নি। ফলে জেলার সিংহভাগ চাষিকে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। বৃষ্টির জলেই তাঁদের চাষাবাদ করতে হয়। বর্ষায় শুধুমাত্র বেশি বৃষ্টি হলেই যে তা চাষের কাজে লাগবে তা নয়, ওই পরিমাণ বৃষ্টি কত সময় ধরে হচ্ছে, তার উপর চাষাবাদ নির্ভর করে। অল্প সময়ের অতিবৃষ্টি চাষিদের উপকারের বদলে ক্ষতি করে। অল্প অল্প করে বৃষ্টি মাসভর হতে থাকলে তা চাষের কাজে লাগে। এবার জুন মাসে বৃষ্টির ঘাটতি থাকলেও পরে দফায় দফায় বৃষ্টি হয়। আগস্ট মাসে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পায়। তার ফলে জেলার অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিগুলিতেও চাষিরা এবার ধান রোপণ করছেন।