Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৩ মাসের জন্য সাসপেনশন নোটিস ১৪ মাস বন্ধ সীসা কারখানা, অথ‌ই জলে ৩০০ কর্মী

তিন মাসের সাসপেনশনের নোটিস দিয়ে  ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁশকুড়ার নারান্দায় নামী সীসা কারখানায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ

৩ মাসের জন্য সাসপেনশন নোটিস ১৪ মাস বন্ধ সীসা কারখানা, অথ‌ই জলে ৩০০ কর্মী
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাঁশকুড়া: তিন মাসের সাসপেনশনের নোটিস দিয়ে  ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁশকুড়ার নারান্দায় নামী সীসা কারখানায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। তারপর প্রায় ১৪ মাস কেটে গেলেও কারখানার তালা খোলেনি। এর ফলে ওই কারখানায় ৩০০ কর্মী কাজ হারানোর আশঙ্কায় ভুগছেন। একদিন কারখানার গেট খুলবে এই আশায় ৩০ জন শ্রমিক এখনও কারখানায় নিরাপত্তা দিয়ে চলছেন। তাঁরা নামমাত্র পারিশ্রমিকে কারখানার যাবতীয় সম্পত্তি সুরক্ষার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। কিন্তু, আজ, কাল করে কারখানা কর্তৃপক্ষ এখনও বন্ধ হয়ে যাওয়া ওই সীসা কারখানার গেট খোলেনি। তাই আগামী দিনে কীভাবে সংসার চলবে তানিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় কাটাচ্ছেন এখানকার কর্মীরা।

Advertisement

পাঁশকুড়া পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নারান্দায় জাতীয় সড়কের ধারে প্রায় ২৫ বিঘা জমির উপর রয়েছে এপিএল মেটালস লিমিটেড। পাঁশকুড়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা ওই কারখানার শ্রমিক ইউনিয়নের দায়িত্ব সামলাতেন। সেই তালিকায় আছেন আনিসুর রহমান, গুরুপদ মুন্সি, কুরবান শা প্রমুখ। একসময় অস্ট্রেলিয়া থেকে কাঁচামাল আসত। কিন্তু, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ধীরে ধীরে কারখানার লোকসান হতে শুরু করে। ঋণের বোঝা ক্রমশ বাড়তে শুরু করে। এর ফলে বিদেশ থেকে কাঁচামাল আনা বন্ধ হয়। এরপর দেশের নানাপ্রান্ত থেকে অকেজো এবং পরিত্যক্ত টন টন ব্যাটারি এনে তা কাঁচামাল হিসেবে কাজে লাগানো হচ্ছিল। কিন্তু, তাতেও লাভ হচ্ছিল না। এদিকে, ঋণের বোঝা কয়েক কোটিতে পৌঁছে যাওয়ার পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ওই কারখানা। ২০২৪ সালে ১৮ সেপ্টেম্বর তিন মাসের জন্য সাসপেনশনের নোটিস দিয়ে কারখানার গেট বন্ধ হয়ে যায়। বুধবার ওই কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, শ্যামল রাউত, অসিত সামন্ত, জবমল রাউত, ভক্ত মাইতি, ভোলা চক্রবর্তী প্রমুখ নিরাপত্তা রক্ষী হিসেবে ডিউটি দিচ্ছেন। অসিতবাবু কারখানার নিরাপত্তারক্ষীই ছিলেন। বাকি প্রত্যেকে প্রোডাকশন বিভাগের কর্মী। ১০ থেকে ১৩ হাজার টাকা পর্যন্ত মাস মাইনে পেতেন। সেই টাকায় সংসার চলত। একদিন কারখানার গেট খুলবে এই আশায় তাঁরা সুরক্ষার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তবে কবে সুদিন আসবে তা নিজেরাও জানেন না। তবুও তাঁদের স্থির বিশ্বাস, একদিন পাঁশকুড়ার এই নামী সীসা কারখানার গেট খুলবেই। নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলানো ভোলা চক্রবর্তী বলেন, আমি ১৬ বছর বয়স থেকে এই কারখানায় কাজ শুরু করি। এখন আমার বয়স ৫৬ বছর। নানা চড়াই উতরাই পার করে এই কারখানার সঙ্গে জড়িয়ে আছি। ১৪ মাস কারখানা বন্ধ। কর্মীরা ভীষণ কষ্টের মধ্যে আছেন। জিতেন কাসেদ নামে এখানকার এক কর্মী আর্থিক সঙ্কটের জেরে ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে না পারায় মারা গিয়েছেন।
পাঁশকুড়ার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ভৈরব দাস বলেন, আমি প্রোডাকশন বিভাগে কাজ করতাম। আমার মতো বিদ্যুৎ জানা, বিষ্ণুপদ জানা সহ অনেকেই এখানে কাজ করতাম। এখন কারখানা বন্ধ। হাতে কাজ নেই। প্রায়ই শুনি কারখানা খুলবে। কিন্তু, বাস্তবে সেটা হচ্ছে না। কারখানার প্রোডাকশন ম্যানেজার অনুপম রক্ষিত বলেন, প্রায় ৩০০ কর্মী কাজ করতেন। দীর্ঘদিন ধরে এই কারখানা সুনামের সঙ্গে চলেছে। কিন্তু, নানা কারণে সেই কারখানায় ঝাঁপ পড়েছে। কবে খুলবে জানি না। কর্মীরা খুব কষ্টের মধ্যে আছেন। আইএনটিটিইউসি-র পাঁশকুড়া ব্লক সভাপতি মুকলেসুর রহমান বন্ধ ওই কারখানার কর্মী ইউনিয়নের সভাপতি পদে আছেন। তিনি বলেন, আমরাও চাই, দ্রুত ওই কারখানা চালু হোক। এনিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ