নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: বাংলার বাড়ি প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ছাড়ার আগে উপভোক্তাদের দুয়ারে পৌঁছে সমীক্ষা সারছে উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসন। জোরকদমে চলা সেই সমীক্ষা পর্বে প্রশাসনিক আধিকারিকরা পৌঁছচ্ছেন জেলার অন্তত ৪৫ হাজার উপভোক্তার বাড়িতে। প্রশাসনিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী সমীক্ষা পর্বের ৯৮ শতাংশ কাজই সম্পূর্ণ হয়েছে। আধিকারিকদের আশা, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সমীক্ষা পর্ব পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে।
ডিসেম্বরে উত্তর দিনাজপুর জেলার ৪৬ হাজার ৬৭১ জন উপভোক্তা বাংলার বাড়ির প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পান। যা দিয়ে প্রথম দফার কাজ শুরু করেছেন উপভোক্তারা। অনেকে প্রথম কিস্তির টাকা খরচ করে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে লিনটন পর্যন্ত ঢালাই হয়ে গিয়েছে। কিছুক্ষেত্রে ভিত তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা দ্বিতীয় কিস্তির টাকা অ্যাকাউন্টে ঢোকার অপেক্ষায় রয়েছেন।
উত্তর দিনাজপুরের জেলাশাসক সুরেন্দ্র কুমার মীনা বলেন, রাজ্য সরকারের উদ্যোগে জেলার ৪৬ হাজার ৬৭১ জন উপভোক্তার জন্য প্রথম কিস্তির টাকা দিতে ২৭৮ কোটি টাকা জেলায় আসে। সেই টাকা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গত ডিসেম্বরেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এবার বাংলার বাড়ির দ্বিতীয় কিস্তির টাকার অপেক্ষায় রয়েছেন উপভোক্তারা। তার আগে নির্দেশাবলী অনুযায়ী উপভোক্তাদের দুয়ারে গিয়ে সমীক্ষা করছেন জেলার বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকরা। ইতিমধ্যে সমীক্ষা পর্বের ৯৮ শতাংশ অর্থাৎ ৪৫ হাজার উপভোক্তার বাড়িতে সমীক্ষার কাজ সম্পূর্ণ করে ফেলেছে প্রশাসন। দ্রুত সমীক্ষা সম্পূর্ণ করার নিরিখেও উত্তর দিনাজপুর জেলা রাজ্যের অন্যান্য জেলার তুলনায় উল্লেখযোগ্য স্থানে রয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, বাংলার বাড়ি প্রকল্পে প্রথম কিস্তিতে যেমন জেলার ৯৮টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ৪৬ হাজার ৬৭১ জন উপভোক্তা ৬০ হাজার করে টাকা পেয়েছেন। তেমনই সমীক্ষায় যদি শেষপর্যন্ত কোনও খামতি ধরা না পড়ে, বাড়ি তৈরির টাকা যথার্থভাবে মানুষজন খরচ করে থাকে, সেক্ষেত্রে নির্ঝঞ্ঝাটভাবেই দ্বিতীয় কিস্তি বাবদ আরও ৬০ হাজার টাকা মিলবে। এক আধিকারিক বলেন, নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী প্রথম ধাপের টাকা পেয়ে মানুষ বাড়ির নির্মাণ কাজ কতটা এগিয়েছে, সমীক্ষায় সেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। টাকা পাওয়ার পর কাজ হয়েছে কি না, কোনও অনিয়ম রয়েছে কি না, তা দেখা হচ্ছে। রায়গঞ্জ ব্লকে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় বাড়ি দেওয়া হয়েছে বলে খবর। তাই এই ব্লকে সমীক্ষার চাপও ছিল বেশি। সংশ্লিষ্ট বিডিওরা নিজ নিজ ব্লকে এব্যাপারে একাধিক বৈঠকও সেরেছেন।