নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: আসানসোল শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা হিলভিউ নামে পরিচিত। তিনটি ওয়ার্ড নিয়ে ছড়িয়ে থাকা এই এলাকাটির আবার চারটি ভাগ রয়েছে। হিলভিউ মেন, হিলভিউ আপার, হিলভিউ নর্থ ও হিলভিউ সাউথ। প্রায় হাজার পাঁচেক বাড়ি রয়েছে। এই বিস্তীর্ণ এলাকার বেশিরভাগ বাড়ি মালিকের জমির কোনও মিউটেশন নেই। যার জেরে সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। তেমনই বাড়ি মালিকরাও বৈধ উপায়ে বাড়ি কিনতে বা বিক্রি করতে পারছেন না। শুধু তাই নয়, ভূমিদপ্তরের নথি অনুযায়ী এলাকায় বিপুল পরিমাণ খাসজমি রয়েছে। পেল্লাই বাড়ি তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় খাসজমির উপর থাকা বাড়িগুলির ভবিষ্যৎ কী তা জানতেই ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের দ্বারস্থ হচ্ছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি যেসব বাড়ি রায়তি জমির উপর রয়েছে সেখানে মিউটেশন করার জন্য সার্ভে করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
হাজার হাজার মানুষের সমস্যার কথা বিবেচনা করে রবিবারই সার্কিট হাউসে ম্যারাথন বৈঠক করেন মন্ত্রী মলয় ঘটক। ছিলেন জেলাশাসক পোন্নমবলম এস, অতিরিক্ত জেলাশাসক(ভূমি ও ভূমি রাজস্ব) অরণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মহকুমা শাসক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য। চারটি এলাকার দু’জন করে বাসিন্দা এলাকার প্রতিনিধিত্ব করার জন্য উপস্থিত ছিলেন। জানা গিয়েছে, এই এলাকায় খ্রিস্টান ব্রাদার্সদের জমি ছিল। সত্তরের দশকে এই জমিগুলি দখল হয়। জানা গিয়েছে, কেউ জমি কিনেছিলেন, কেউ আবার দখল করে নিয়েছিলেন। ওই এলাকায় একটি বেসরকারি সংস্থার কিছু জমি ছিল। যা ‘লিকুডিশনে’ চলে যায়। তখন ক্ষতিপূরণ বাবদ কিছু কর্মীকে সেখানে কোর্টের নির্দেশে জমি দেওয়া হয়। বেপরোয়াভাবে বহু খাসজমি দখল হয়েছিল। এভাবেই হিলভিউ গড়ে ওঠে। বিভিন্ন চরিত্রের জমি থাকলেও সবার সমস্যা একই। কারও জমিতেই মিউটেশন করা নেই। মিউটেশন না থাকায় জমি বা বাড়ি হস্তান্তর হচ্ছে না। বিপুল রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে রাজ্য সরকারের। সরকারি জমিতে বাড়ি হয়ে যাওয়ায় প্রশাসন তা ব্যবহারও করতে পারছে না আবার রাজ্য সরকার দখলদারের কাছ থেকে করও পাচ্ছে না। অন্যদিকে ছ’দশক ধরে থেকেও বাসিন্দারা নিজেদের প্রকৃত জমির মালিক বলতে কুণ্ঠা বোধ করেন। কারণ তাঁদের হাতে মিউটেশনের কোনও কাগজপত্র নেই। জমির উপর বাড়ির লোন বা বাড়ি বন্ধক রেখে লোন নিতে পারেন না তাঁরা। এই অবস্থায় হাজার হাজার মানুষের সমস্যর কথা বিবেচনা করে স্থানীয় বিধায়ক মলয়বাবু অগ্রসর হন। তারই চূড়ান্ত বৈঠক হয় এদিন আসানসোল সার্কিট হাউসে। তিনটি ভাগে সমস্যা মেটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেসব জমি রায়তি হিসেবে চিহ্নিত তা সার্ভে করে বের করা হবে। সেখানে নথি মিলিয়ে দেখে তাঁদের মিউটেশন করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে একলপ্তে অনেক টাকা ঢুকবে সরকারি কোষাগারে।
দ্বিতীয়ত, যেসব সরকারি জমিতে বাড়ি তৈরি হয়েছে তা যদি সরকার লিজে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তাতেও প্রশাসনের আয় হবে। পাশাপাশি স্বস্তি পাবেন সাধারণ বাসিন্দারা। মন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, হিলভিউয়ের জমি সংক্রান্ত সমস্যা মেটাতে সবকরম চেষ্টা চলছে।-নিজস্ব চিত্র