Bartaman Logo
২৭ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুখ্যমন্ত্রীর ঝাড়গ্রামে জমির রায়ত স্বত্বের আশ্বাসের পরেই শুরু হল সমীক্ষা, স্বস্তি

ঝাড়গ্রাম শহরের ১০ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ৭০০ পরিবার জমির রায়ত স্বত্বের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আবেদন করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী রায়ত স্বত্ব দেওয়ার কথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন।

মুখ্যমন্ত্রীর ঝাড়গ্রামে জমির রায়ত স্বত্বের আশ্বাসের পরেই শুরু হল সমীক্ষা, স্বস্তি
  • ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম শহরের ১০ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ৭০০ পরিবার জমির রায়ত স্বত্বের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আবেদন করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী রায়ত স্বত্ব দেওয়ার কথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন। জেলা প্রশাসন সেই ব্যাপারে এবার ওয়ার্ডে গিয়ে সমীক্ষার কাজ শুরু করেছে। শহরের দুই ওয়ার্ডের বাসিন্দারা প্রশাসনের এই উদ্যোগে স্বস্তিতে।ঝাড়গ্রামের অতিরিক্ত জেলাশাসক লক্ষণ পেরুমল (ভূমি ও ভূমি সংস্কার) বলেন, সমীক্ষার কাজ এদিন থেকে শুরু হয়েছে। রিপোর্ট দপ্তরে ১৫ দিনের মধ্যে পাঠানো হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক ব্যবস্থা হবে।

Advertisement

দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ঝাড়গ্রাম শহরের ১০  ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডের জমির মালিকানা স্বত্ব নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। ভূমি দপ্তর ১৯৮১ সালে দু’'টি ওয়ার্ডের ৪১ একর জমিকে খাস বলে ঘোষণা করেছিল। জমির জট নিয়ে আদালত পর্যন্ত জল গড়ায়। জমি রায়তি স্বত্ত্ব পুনরুদ্ধার কমিটির সদস্যরা এরপর লাগাতার আন্দোলনে নামেন। হাই কোর্ট ১৯৯৭ সালে জানিয়ে দেয় ওই জমি রায়তি। ভূমি দপ্তর ১৯৯৮ সালে ওই জমিকে ফের খাস বলে ঘোষণা করে। হাই কোর্ট ২০০০ সালে ভূমি দপ্তরের নির্দেশিকা বাতিল করে ফের জানায় জমিটি রায়তি। জমি রায়তি স্বত্ত্ব পুনরুদ্ধার কমিটি এরপরেই মুখ্যমন্ত্রীর  দ্বারস্থ হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গতবছর বিশ্ব আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠানে ঝাড়গ্রামে এসে জমির রায়তি স্বত্ত্ব পুনরুদ্ধারের আশ্বাস দিয়েছিলেন। মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ ও তৎকালীন ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক সুনীল আগরওয়ালকে দ্রুত সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।

জেলা প্রশাসনের তরফে এরপরেই শুরু হয় তৎপরতা। ঝাড়গ্রাম ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর ২৮০ জনের কাছ থেকে নথি জমা নেয়। প্রশাসনের তরফে গত ২৪ জানুয়ারি সমীক্ষার কথা ঘোষণা করা হয়। মঙ্গলবার ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকরা ওই দুই ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন। বুধবার থেকে সমীক্ষার কাজ শুরুর কথা বলা হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললেই জমির রায়তি স্বত্ত্ব দেওয়ার কাজ শুরু হয়ে যাবে। জমি রায়তি স্বত্ত্ব পুনরুদ্ধার কমিটির সম্পাদক গৌতম সিংহ বলেন, রায়তি স্বত্ত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন টানাপোড়েন চলছিল। মুখ্যমন্ত্রী জমির রায়তি স্বত্ব ফেরানোর আশ্বাস দেওয়ায় প্রশাসনে তৎপরতা শুরু হয়। সমীক্ষার কাজ শুরু হওয়ায় আমরা খুশি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ