নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ‘গন্ধেশ্বরী-দ্বারকেশ্বর প্রকল্প’ রূপায়ণের জন্য সমীক্ষার কাজ শুরু করল বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন। ওই প্রকল্পের জন্য উদ্যোগী হওয়ার আবেদন জানিয়ে সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়াকে চিঠি দিয়েছিলেন বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী। তারপরেই সমীক্ষা শুরু করল জেলা প্রশাসন।
এব্যাপারে বাঁকুড়ার জেলাশাসক সিয়াদ এন বলেন, গন্ধেশ্বরী-দ্বারকেশ্বর প্রকল্প রূপায়ণের জন্য সমীক্ষা শুরু হয়েছে। ওই রিপোর্ট দ্রুত জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা পেলে রাজ্যস্তরে পাঠানো হবে। পরবর্তীকালে সেখান থেকে যা নির্দেশ আসবে, আমরা সেইমতো কাজ করব।
সাংসদ বলেন, গন্ধেশ্বরী-দ্বারকেশ্বর প্রকল্পের জন্য প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল। সেইমতো বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট তৈরি করে প্রথমে রাজ্যের অনুমোদন নেওয়া হয়। পরে তা কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকে জমা দেওয়া হয়। তবে, তা জাপানী প্রযুক্তিতে করলে আরও প্রায় ৩০০ কোটি টাকা কম খরচ হবে। ওই প্রযুক্তি ব্যবহার করলে কোনও লোকালয়ে প্রভাব পড়বে না। ফলে কাউকে পুনর্বাসনও দিতে হবে না। আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী করলে পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দাদের সরানোর প্রয়োজন হতো।
তিনি আরও বলেন, ওই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাঁকুড়া-১ ও ২, ছাতনা, ওন্দা, পাত্রসায়র এবং বিষ্ণুপুর ব্লকে কয়েক লক্ষ মানুষ উপকৃত হবেন। সম্প্রতি কলকাতায় আয়োজিত দলীয় বৈঠকে সেচমন্ত্রীর সঙ্গে আমরা দেখা হয়েছিল। সেখানেও দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়িত করার জন্য আমি সেচমন্ত্রীর কাছে তদ্বির করেছি। কেন্দ্রীয় সরকার টাকা আটকে রেখেছে। সেই টাকা ছাড়লেই প্রকল্প রূপায়ণের উদ্যোগ নেবেন বলে মানসবাবু আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন। তার আগেই যাতে প্রশাসন সমীক্ষার কাজ শেষ করে সেব্যাপারে জেলাশাসকের সঙ্গে আমি কথা বলব।
বাঁকুড়া-২ ব্লকের বিকনা ও ওন্দার সান্তোর অঞ্চলের চাষি সুধাংশু কর্মকার ও অবিনাশ ঘোষ বলেন, ওই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকার কৃষিকাজে কার্যত সবুজ বিপ্লব হবে।
উল্লেখ্য, বাঁকুড়া শহরের দু’পাশে গন্ধেশ্বরী নদী ও দ্বারকেশ্বর নদ বয়ে গিয়েছে। দীর্ঘ বাম আমলে বহু বার চর্চা হলেও গন্ধেশ্বরী-দ্বারকেশ্বর প্রকল্প রূপায়িত হয়নি। তৃণমূল জামানাতেও ওই প্রকল্প কার্যত বিশবাঁও জলে পড়ে রয়েছে। এব্যাপারে অবশ্য এর আগে রাজ্য সরকারের তরফে কেন্দ্রের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার টাকা বরাদ্দ না করায় প্রকল্প রূপায়ণ সম্ভব হচ্ছে না বলে রাজ্যের অভিযোগ। দ্বারকেশ্বর নদের জলধারণ ক্ষমতা অনেকটাই বেশি। তুলনামূলকভাবে গন্ধেশ্বরী নদী কম চওড়া। ওই নদীতে সারাবছর জল থাকে না। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় গন্ধেশ্বরী নদী মজে গিয়েছে। ফলে বর্ষার সময় দু’কূল ছাপিয়ে নদীর জল জনপদ ভাসিয়ে দেয়। কয়েকবছর আগে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন গন্ধেশ্বরী নদী পুনরুজ্জীবনের কাজে হাত দেয়। নদী তীরবর্তী এলাকায় ছোট ছোট হাপা(গর্ত) ও কুয়া খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। বর্ষার সময় ওইসব গর্তে জল পূর্ণ হয়ে তার চোরাস্রোত নদীগর্ভে সারাবছর বয়ে চলার কথা ছিল। তবে, ওই পরিকল্পনা তেমনভাবে রূপায়ণ হয়নি। এখন পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প কবে বাস্তবায়িত হয়, সেটাই দেখার।