নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: কখনও গ্যাংস্টারদের আত্মগোপন, এসটিএফের সঙ্গে গুলিবর্ষণ—এনকাউন্টার। কখনও উইক এন্ডে পার্টিতে আইটি কর্মী তরুণীকে গণধর্ষণ, কখনও আবার ভিন রাজ্যে শ্যুটআউট কাণ্ডে অভিযুক্তদের সেফ ‘শেল্টার’। বারবার শিরোনামে এসেছে নিউটাউনের সাপুরজির সুখবৃষ্টি আবাসন। আবাসিকদের উদ্বেগ, সাব-টেনান্টদের হাত ধরে অপরাধীরা ‘শেল্টার হাউজ’ বানিয়ে ফেলছে এই আবাসনকে। তাই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে বেশিরভাগ আবাসিক। তবে উদ্বেগের মাঝে অন্য পথও দেখাচ্ছে সুখবৃষ্টির ‘এ’ ব্লক। পাঞ্জাবের গ্যাংস্টারদের সঙ্গে এনকাউন্টারের পর গোটা ব্লক লোহার জাল দিয়ে ঘিরে ফেলেছেন দেড় হাজার আবাসিক। তিনটি শিফটে ২৪ ঘণ্টার জন্য রাখা হয়েছে ২১ নিরাপত্তারক্ষী।
নিউটাউনের অ্যাকশন এরিয়া-থ্রি এলাকায় গড়ে উঠেছে সাপুরজির সুখবৃষ্টি আবাসন। যা নিউটাউনের একটি ল্যান্ডমার্ক। আবাসিকদের কথায়, ওয়ান-টু এবং থ্রি বিএইচকে মিলিয়ে এখানে কমবেশি ২০ হাজার ফ্ল্যাট রয়েছে। তবে প্রায় ৭৫ শতাংশ ফ্ল্যাটেই রয়েছেন ভাড়াটিয়ারা। মাত্র ২৫ শতাংশ মালিক নিজের ফ্ল্যাটে থাকেন। ছোটখাট ঘটনা ঘটার অভিযোগ আগেও উঠেছে। কিন্তু সবথেকে বড় ঘটনা সামনে আসে ২০২১ সালের ৯ জুন। কারণ সাপুরজির সুখবৃষ্টি আবাসনের বি ব্লকে আত্মগোপন করেছিল পাঞ্জাবের দুই গ্যাংস্টার জয়পাল সিং ভুল্লার এবং জশপ্রীত সিং ওরফে জসসি। ওইদিন বেঙ্গল এসটিএফের এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছিল পাঞ্জাবের দুই গ্যাংস্টারের।
দু’বছর পর ২০২৩ সালের অক্টোবরে ফের সামনে আসে সাপুরজি। সুখবৃষ্টি আবাসনের ভিতর উইক এন্ড পার্টিতে এক আইটি কর্মী তরুণীকে গণধর্ষণ করেছিল তিন সহকর্মী। তারপর শেষ সংযোজন পাটনার শ্যুটআউট কাণ্ড। কয়েকজন অভিযুক্তকে নাকি শেল্টার দেওয়া হয়েছিল এই আবাসনেই। পাঁচজনকে আটক করে জিজ্ঞাসবাদও করছে এসটিএফ। তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আবাসিকদের মধ্যে। সৈকত পাল চৌধুরী নামে সুখবৃষ্টির এক আবাসিক বলেন, ‘ভিন রাজ্যের অপরাধীরা এখানে বারবার শেল্টার নিচ্ছে। এখানে প্রায় ২০ হাজার ফ্ল্যাট রয়েছে। কে আসছে, কে যাচ্ছে তা বোঝা মুশকিল। তাই আবাসনের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা সত্যিই উদ্বেগের মধ্যে রয়েছি।’
আবাসনের মূল রাস্তা থেকে মেন গেট দিয়ে ঢুকে কিছুটা এগলে ডানহাতে ‘এ’ ব্লক এবং বাঁ হাতে ‘বি’ ব্লক। এই বি ব্লকেই পাঞ্জাবের গ্যাংস্টারদের এনকাউন্টার করা হয়েছিল। ‘এ’ ব্লকের সভাপতি তপন মণ্ডল বলেন, ‘গ্যাংস্টারদের এনকাউন্টারের ঘটনার পর আমরা নিজেদের সুরক্ষা নিজেরাই করার ব্যবস্থা করেছি। শুধুমাত্র ‘এ’ ব্লকে এক হাজার ৪৮০ ফ্ল্যাট রয়েছে। সকলে মিলে আমরা গোটা ব্লক লোহার জাল দিয়ে ঘিরে নিয়েছি। আমাদের তিনটি গেট। তাতে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তারক্ষী থাকে। রাত ১০টার পর দু’টি গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। একটি মাত্র খোলা থাকে। তাও আবাসিকদের চেক করেই ঢুকতে দেওয়া হয়। তবে সুখবৃষ্টি শেল্টার হাউজ হয়ে উঠছে, এটা মিথ্যে নয়। তাই আমরাও চাই, গোটা আবাসনেরই সুরক্ষা বাড়ুক। যাতে নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারেন আবাসিকরা।’ নিজস্ব চিত্র