রায়পুর: কথায় বলে ঘরের শত্রু বিভীষণ! নিহত মাওবাদী শীর্ষনেতা বাসবরাজুর ক্ষেত্রেও বোধহয় একথা প্রযোজ্য। সূত্রের খবর, ছত্তিশগড়ে সম্প্রতি আত্মসমর্পণ করা মাওবাদী ক্যাডারদের কাছ থেকেই বাসবরাজুর গতিবিধি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছিলেন গোয়েন্দারা। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই বুধবার ছত্তিশগড়ের নারায়ণপুরে সশস্ত্র বাহিনীর চালানো অভিযানে সাফল্য মেলে। খতম হন সিপিআই (মাওবাদী)-এর সাধারণ সম্পাদক তথা সুপ্রিম কমান্ডার বাসবরাজু। তাঁর সঙ্গেই নিকেশ করা হয় ২৬ মাওবাদী ক্যাডারকে।
বুধবারের অভিযানে নিকেশ হওয়া মাওবাদী ক্যাডারদের সিংহভাগই শীর্ষনেতা বাসবরাজুর দেহরক্ষী ছিল। সংগঠনের সামরিক শাখার সদস্য হিসেবে তারা প্রত্যেকেই অস্ত্রচালনায় প্রশিক্ষিত ছিল। সূত্রের খবর, সম্প্রতি দক্ষিণ বস্তার অঞ্চলে আত্মসমর্পণ করা মাওবাদীদের কাছ থেকে নারায়ণপুর ও বিজাপুরে বাসবরাজু সহ সংগঠনের শীর্ষনেতাদের সম্ভাব্য অবস্থান ও গতিবিধি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য হাতে এসেছিল গোয়েন্দাদের। আত্মসমর্পণ করা এই ক্যাডারদের মধ্যে একজন আবার বাসবরাজুর নিরাপত্তায় নিযুক্ত সশস্ত্র রক্ষী টিমের সদস্যও ছিল। তাদের থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত দু’সপ্তাহ ধরে অভিযানের চূড়ান্ত পরিকল্পনা করা হয়। অবশেষে বুধবারের এনকাউন্টারে ২৬ ক্যাডার সহ খতম হন বাসবরাজু। বুধবার বাসবরাজু সহ ২৭ মাওবাদীকে নিকেশের অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ডের (ডিআরজি) জওয়ানরা। তাঁদের এই সাফল্যকে কুর্নিশ জানাতে নারায়ণপুরে নাগরিক সংবর্ধনা ও তিলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ভারী বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাত পর্যন্ত চলে অনুষ্ঠান। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, স্থানীয় গানে নেচে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন জওয়ানরা।