নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পরিচিত পাণ্ডুয়ার ছবি বদলাচ্ছে। থিমের মনোহর সাজে সেজে উঠছে একের পর এক মণ্ডপ। হুগলি কালীপুজোর নগরীতে এখন শুধুই পরিবর্তনের পালা। আর তাতেই চেনা পাণ্ডুয়ার গলিপথও নতুন চেহারা পাচ্ছে। একগুচ্ছ বিগ বাজেটের পুজো, পুজোকে কেন্দ্র করে বর্ণময় আলোকসজ্জা আর প্রতিযোগিতার জেরে ইতিমধ্যেই পাণ্ডুয়ার নগরজীবনে দোলা লেগেছে। প্রতিবারের মতো উৎসাহ আর উত্তেজনার আঁচ পোহাতে শুরু করেছে নাগরিক মহল। অলি-গলি-রাজপথে এখন কোথাকার পুজো কমিটি কেমন আয়োজন করছে তা নিয়ে চর্চা। স্থানীয় মানুষ থেকে শুরু করে গোটা হুগলির নাগরিকের প্রশ্নের কথা জানেন উদ্যোক্তারা। তাই চমকের পসরা সাজাতে তাঁরা চেষ্টার কমতি রাখছেন না।
পাণ্ডুয়ার অন্যতম বিগ বাজেটের পুজো গোহাট মেলাতলা ব্যবসায়ী সমিতির পুজো। সেখানকার এবারের থিম, মহাকাল। দেবাদিদেব শিবকে কেন্দ্র করে মণ্ডপের বাহির থেকে অন্দরসজ্জায় চমক আনতে চাইছেন উদ্যোক্তারা। বিরাট আয়তনের মণ্ডপের বাহিরসজ্জায় থাকছে দেবাদিদেবের নানা মোটিফ। কোথাও ত্রিশূল, কোথাও ডমরু, কোথাও বা অর্ধচন্দ্র এবং চন্দ্রহাস, এসবের বাহারি সজ্জা দেখা যাবে। মণ্ডপের অন্দরসজ্জাও শিবময়। সেখানে ১৫ ফুটের শিবলিঙ্গ থেকে অসংখ্য ক্ষুদ্রায়তন শিবলিঙ্গের সজ্জা দেখা যাবে। আর থাকবেন নন্দী। দেবীকালীও এখানে ভীষণদর্শনা। মুণ্ডমালার সিংহাসনের উপর রুদ্রমূর্তিতে প্রকট হবেন। প্রতিমা মাটির। আবার, কালীপুজো আলোর উৎসব। তাই আলোকসজ্জাতে প্রদীপের আদলে আলোর বাহার গড়ে নজর কাড়তে চেয়েছেন উদ্যোক্তারা। পাশাপাশি বিশেষ রকমের আলোকসজ্জাও থাকবে। পুজো উদ্যোক্তা সুরজিৎ ঘোষ বলেন, প্রতিমা থেকে মণ্ডপ, আলোকসজ্জাতেও নতুন চমক দর্শকরা দেখতে পাবেন।
পাণ্ডুয়ার বোসপাড়া ফ্রেন্ডস ক্লাবের পুজোতে থিমের চমক থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। বোসপাড়ার এবারের থিম, মাটির রূপকথা। সাবেক সময় মাটির অনেক জিনিসই আজ বাতিলের খাতায় চলে গিয়েছে। শিশুদের মাটির পুতুল থেকে পয়সা জমানোর মাটির ভাঁড় অবলুপ্তির পথে। অথচ তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটা সময়ের শৈশবের নানা রূপকথা। সেই ভাবই ফ্রেন্ডস ক্লাবের আশ্রয়। ৫৫ ফুট লম্বা ও ৬০ ফুট চওড়া মণ্ডপজুড়ে সেই রূপকথাকেই ফিরে দেখা যাবে। গোটা মণ্ডপ সাজানো হয়েছে মাটির পুতুল থেকে ভাঁড় সহ নানা সাবেক উপকরণে। মৃৎশিল্পের একটি ছোট্ট ইতিহাসও মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। দেবী এখানেও মৃন্ময়ী। তবে তাঁর আদল গড়া হচ্ছে তারাপীঠের তারা-মা’র মতো করে। বোসপাড়া তাদের আলোকসজ্জাতেও রাখছে থিম। গোটা আলোসজ্জাই রাধাকৃষ্ণের লীলাকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হচ্ছে। পুজো উদ্যোক্তা সঞ্জিত ঘোষ বলেন, এবারে বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। পুজোর সমস্ত কিছুতেই দর্শকদের মাতিয়ে রাখার প্রয়াস থাকবে।
ইতিমধ্যেই পাণ্ডুয়ার পথঘাটের দখল নিয়েছে বড়ো বড়ো তোরণ। রাতে তাতে আলোর পরীক্ষা চলছে। সেই আলোআঁধারিকে ঘিরে স্বপ্নময় হয়ে উঠছে পাণ্ডুয়া, হুগলির কালীপুজোর নগরী।



