শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: কালীপুজোয় সাজতে শুরু করেছে বারাসত। চারিদিকে নতুন করে ঢাকের আওয়াজ। শুরু হয়ে গিয়েছে থিমের প্রতিযোগিতা। আর বারাসত ও মধ্যমগ্রামের কালীপুজো উৎসব নয়, ঐতিহ্যেরও অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতিবছর বারাসতের নবপল্লি অ্যাসোসিয়েশন কালীপুজোর থিমে আনে অভিনবত্ব। প্যান্ডেলের ভিড়ে মিলেমিশে যায় শিল্পী, ভক্ত ও দর্শকের আনন্দ। এবার ৪৭তম বছরে ক্লাবের থিম ‘চন্দ্রোদয় মন্দির বৃন্দাবন’।
প্যান্ডেল ১৪০ ফুট উঁচু, ১০০ ফুট চওড়া। চারপাশের আলো ও রঙে জীবন্ত হয়ে উঠবে প্যান্ডেল। প্যান্ডেলের কেন্দ্রে বসানো হচ্ছে ১৭ ফুট উচ্চতার কালী। মূর্তিতে এবার অভিনবত্ব আনছে নবপল্লি। মূর্তি হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণের কালিয়াদমনের আদলে। সাপের নীচে বসে কালী। সাপের মাথায় শ্রীকৃষ্ণ। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, কালী সব দর্শককে মনে করিয়ে দেবেন শক্তি ও ভক্তি মিলেই অশান্তি ও অন্ধকারকে জয় করা যায়। শেষ মুহূর্তে চলছে প্যান্ডেল তৈরির কাজ। ১৭ অক্টোবর পুজোর উদ্বোধন করার কথা বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাছাড়া উপস্থিত থাকবেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বৃন্দাবনের চন্দ্রোদয় মন্দিরের আদলেই তৈরি হচ্ছে প্যান্ডেল। ব্যবহার করা হচ্ছে প্লাই, ফাইবার, ফাইবার গ্লাস, ফোম সহ অনান্য সামগ্রী। নকশা, আলো, রং ভক্তি, প্রেম ও শক্তির মিলনের এক মহাসমারোহ তৈরি করবে বলবে আশাবাদী পুজো কমিটি। থাকছে সামঞ্জস্যপূর্ণ আলো। উদ্যোক্তাদের দাবি, সুউচ্চ প্যান্ডেল দেখলে মনে হবে আকাশের সঙ্গে মিশে গিয়েছে। তাছাড়া ভক্তি ও শিল্পের মিলন শুধু চোখের আনন্দ নয় মানুষের হৃদয়ে প্রেরণা এবং আনন্দের দীপ্তিও জ্বালিয়ে রাখে। চন্দ্রোদয় মন্দির বৃন্দাবনের ঝলমলে দৃশ্যপটে কালী ও কৃষ্ণ একসঙ্গে থাকছে এটাই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
কমিটির কর্মকর্তা চয়ন দাস বলেন, তিনমাস ধরে প্যান্ডেলের কাজ হচ্ছে। মূর্তি নদীয়ার কৃষ্ণনগরের শিল্পী নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় তৈরি করছেন। আর থিম করছেন ডায়মন্ডহারবারের অরূপ সর্দার। মূর্তি তৈরি হচ্ছে প্যান্ডেলেই। প্রায় চার হাজার স্কোয়ার ফুট জায়গা নিয়ে প্যান্ডেল ও থিম হচ্ছে। মানুষ মণ্ডপে প্রবেশ করে যেমন প্রতিমা দর্শন করবে তেমনই আলো ও ছায়ার খেলা এবং থিমের মাধ্যমে একটি মানসিক শান্তিও পাবেন। সঙ্গে নতুন শক্তি ও আশার বার্তা গ্রহণ করবে। নিজস্ব চিত্র