Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সিউড়ির নার্সিংহোমে তাণ্ডব, ভাঙচুর ডিউটি ছেড়ে পালালেন ডাক্তার-নার্স

সিউড়ির নার্সিংহোমে তাণ্ডব, ভাঙচুর ডিউটি ছেড়ে পালালেন ডাক্তার-নার্স
  • ১২ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হুলস্থুল কাণ্ড বাধল সিউড়ির একটি নার্সিংহোমে। ডাঙ্গালপাড়ার ‘স্বস্তিক’ নামক একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভাঙচুর চালাল উত্তেজিত রোগীর আত্মীয়রা। তাঁরা আইসিইউয়ের দরজা ভেঙে দেন। চিকিৎসার সরঞ্জাম তছনছ করে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। এই উত্তেজনাতে লাটে ওঠে অন্যান্য রোগীর চিকিৎসা পরিষেবা। এই পরিস্থিতিতে এক রোগীকে আইসিইউ ছেড়ে অন্য হাসপাতালের দিকে চলে যেতে দেখা যায়। বিশাল পুলিস বাহিনী গেলেও পরিস্থিতি তেমন স্বাভাবিক হয়নি। তবে বিকালের পর নার্সিংহোমে মানুষজনের ভিড় কমে।
Advertisement
জানা যায়, গত ৭ দিন ধরে এই নার্সিংহোমে ভর্তি ছিলেন দুবরাজপুরের ঘাটগোপালপুর গ্রামের নেফুজল হক (৫২)। তাঁর পায়ের হাড়ে অপারেশনের প্রয়োজন ছিল। দু’দিন আগে অপারেশন হয়েছিল। তারপর নার্সিংহোমেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল। সোমবারই নাকি তাঁকে ছুটি দিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এদিন হঠাৎই সকালে খবর আসে, ওই রোগী মারা গেছেন। আর সেই খবর তড়িৎগতিতে পৌঁছে যায় ২৫ কিমি দূরে ঘাটগোপালপুর গ্রামে। সেই খবর পাওয়া মাত্রই পরিবারের লোকজন ও গ্রামবাসীরা ছুটে আসেন। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। বিক্ষুব্ধ মানুষজন নার্সিংহোমের রিসেপশন থেকে শুরু করে সর্বত্র চিৎকার, চেঁচামেচি শুরু করে দেন। এরপর আইসিইউতে ঢুকে ভাঙচুর চালানো হয়। একে একে কাচের দরজা, জানলা ভেঙে ফেলতে থাকে। এমনকী বাদ ছিল না চিকিৎসার সরঞ্জামও। কাঁচি, ছুরি থেকে ওষুধপত্র মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। কম্পিউটারও আছড়ে ভেঙে দেন বিক্ষুব্ধরা। খবর যায় সিউড়ি থানাতে। আইসি দেবাশিস ঘোষ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও কোনও কাজ হয়নি। নার্সিংহোমের ভেতরে দুই থেকে তিনশো মানুষ ঢুকে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। তাঁদের অভিযোগ, যে চিকিৎসক এই অপারেশন করেছেন, তাঁর ভুলের জন্যই রোগীর মৃত্যু ঘটেছে। ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এর আগেও ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ জানান মৃতের বাড়ির লোকজন। যদিও ততক্ষণে হাসপাতাল ছেড়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক তো বটেই অন্যান্য চিকিৎসক এবং নার্সরাও পালিয়ে যান। 
এই উত্তেজনার মধ্যেই আইসিইউতে ছটফট করছিলেন সিউড়িরই এক মাঝবয়সি রোগী। তাঁর ছেলে কৌস্তুভ সিনহা ভেবে পাচ্ছিলেন না এই পরিস্থিতিতে ঠিক কী করবেন! শেষমেশ চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া সম্ভব নয় বুঝে তিনি বাবাকে নিয়ে অন্য হাসপাতালের দিকে রওনা দেন। একই অবস্থা জেনারেল বেডে থাকা পল্টু গড়াইয়ের। তিনি বলেন, হাতের অপারেশন হয়েছে। কিন্তু কিছুতেই ছুটি দিচ্ছে না। এদিকে দুপুরের খাবার দিতেও কেউ আসেনি। আর ডাক্তার, নার্স তো কেউই নেই। এভাবেই কয়েক ঘণ্টা বিক্ষোভ চলে। দুপুরের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা আসেন। পুলিসি মধ্যস্থতায় আলোচনা চলে। এতে বিকালের দিকে হাসপাতালের ভিড় ফাঁকা হয়। 
মৃতের এক আত্মীয় সাহাবুদ্দিন খান বলেন, সকালে এসে কথা বলেছি রোগীর সঙ্গে। তখন সব ঠিক ছিল। বলেছিলাম, ছুটি দিয়ে দিন। বর্ধমানে নিয়ে চলে যাব। কিন্তু আমাদের কোনও কথাই শোনেনি। আর তারপরই এই ঘটনা ঘটল। আরেক আত্মীয় বলেন, সম্পূর্ণ ডাক্তারের ভুলেই এই মৃত্যু। অন্যদিকে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের দাবি, কোনও ভুল চিকিৎসা হয়নি। নার্সিংহোমের প্রশাসনিক প্রধান কৌশিক পণ্ডিত বলেন, রোগীর হঠাৎ করেই সুগার ফল করেছিল। ডাক্তারবাবু নিজে দাঁড়িয়েছিলেন। তখনই স্ট্রেচার নিয়ে তড়িঘড়ি আইসিইউতে নিয়ে যাওয়া হয়। কোনও ভুল চিকিৎসা হয়নি। ওঁরা হাসপাতালের অনেক ক্ষয়ক্ষতি করেছেন।
সম্পর্কিত সংবাদ