নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অযোগ্য ‘দাগ’ লেগে যাওয়া শিক্ষকদের কোনওভাবেই আর পরীক্ষায় বসার সুযোগ দিতে নারাজ সুপ্রিম কোর্ট। গত বুধবার স্কুল সার্ভিস কমিশনের মামলায় ‘র্যাঙ্ক জাম্প করে নিযুক্ত’ চাকরিহারা শিক্ষকদের আবেদন খারিজ করছে বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ। শুক্রবার একইভাবে ওমএআর স্কোরে গরমিল হওয়া আবেদনকারীদের আর্জি পত্রপাঠ খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত।
এদিন শুরুতেই শুনানির পর্যবেক্ষণে বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের মন্তব্য, ‘আপনারা এক এক করে আসছেন। ভাবছেন, গত ৩ এপ্রিলের রায় বদলে যাবে। প্রত্যেকেই নিজেদের অযোগ্য তথা দাগি (টেন্টেড) নয় বলে দাবি করছেন। এভাবে শুনানি হতে পারে না। আপনারা দাগি।’ তবুও তাঁর মক্কেলদের হয়ে লড়ে যান বিশিষ্ট আইনজীবী মুকুল রোহতগি এবং করুণা নন্দী। প্রথমজন একাদশ-দ্বাদশ এবং দ্বিতীয়জন নবম-দশমের সহকারী শিক্ষকদের হয়ে সওয়াল করেন। তাঁদের বক্তব্য, হাইকোর্ট মূলত তিনটি ক্যাটিগরিকে দাগি বা অযোগ্য বলে চিহ্নিত করেছিল। যারা সাদা খাতা জমা দিয়েছেন, প্যানেল বহির্ভূত এবং প্যানেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিযুক্ত। এক্ষেত্রে অভিযোগ ওএমআর শিটের সঙ্গে প্রাপ্ত নম্বরের মিসম্যাচ সংক্রান্ত। নির্দিষ্টভাবে দাগি বলে চিহ্নিত না করা সত্ত্বেও তাঁদের চাকরি গিয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই প্রার্থীরা অংশ নিতে পারবেন না। সেই সুযোগটুকু অন্তত দেওয়া হোক।
সিবিআইয়ের রিপোর্ট মোতাবেক (যা গত ৩ এপ্রিলের সুপ্রিম কোর্টের রায়েও উল্লেখ রয়েছে) মোট ৮ হাজার ১৬৩ জনের ওএমআর শিটে গরমিল ছিল। তার মধ্যে থেকে নবম-দশমে সহকারী-শিক্ষকের সংখ্যা ৯৫২ জন। একাদশ-দ্বাদশের ৯০৭ জন। বাকি গ্রুপ সি এবং ডি। ওএমআর মিসম্যাচ হওয়া সত্ত্বেও এর মধ্যে থেকে নবম-দশমে ৮০৮ এবং একাদশ-দ্বাদশে ৭৭২ জনকে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।
আবেদনকারীর আইনজীবীদের বক্তব্য শুনে এদিন শুনানিতে বিচারপতি সঞ্জয় কুমার বলেন, ‘শুধুই ওই তিন ক্যাটিগরি নয়। আপনারাও দাগির তালিকায় পড়েছেন। তাছাড়া চাকরির নিয়োগে সুপারিশ করে স্কুল সার্ভিস কমিশন। তারা এই মামলায় কিছু আবেদন করেনি। সিবিআইও নয়। তাহলে দাগি বলে চিহ্নিতরা এভাবে বারবার এসে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে চাওয়ার কোনও মানে হয় না।’ বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, গত ৩ এপ্রিল এ ব্যাপারে বিস্তারিত রায় দেওয়া হয়েছে। তার কোনও বদল হবে না। মামলা খারিজ।
আদালতে এদিন শুনানিতে পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের আইনজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন। নজর রাখছিলেন শুনানিতে। কারণ, মূল রায়কে পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) করার আর্জি জানিয়ে ইতিমধ্যেই শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করেছে কমিশন এবং রাজ্য। কিন্তু যেভাবে এসএসসি সংক্রান্ত আবেদন পরপর খারিজ হচ্ছে, সেক্ষেত্রে ওই রিভিউ পিটিশনের ভবিষ্যৎ কী? প্রশ্ন কিন্তু থাকছেই।