নয়াদিল্লি: অপারেশন সিন্দুরের আবহে ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছেন উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং। যদিও একই সঙ্গে বালাকোট ও অপারেশন সিন্দুরের সঙ্গে যুক্ত থাকা অন্য এক মহিলা অফিসার উইং কমান্ডার নিকিতা পান্ডে ‘বৈষম্যে’র অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। নিকিতার অভিযোগ, তাঁকে পার্মানেন্ট কমিশন বা স্থায়ী চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এই ইস্যুতে বৃহস্পতিবার কেন্দ্র ও ভারতীয় বায়ুসেনাকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, ওই মহিলা অফিসারকে এখনই চাকরি থেকে ‘রিলিজ’ বা অপসারণ করা যাবে না। বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং এন কোটীশ্বর রাওয়ের বেঞ্চ এবিষয়ে কেন্দ্র ও বায়ুসেনার বক্তব্য জানতে চেয়েছে। বায়ুসেনাকে ‘পেশাদার বাহিনী’ বলে মন্তব্য করে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, চাকরি সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা এই অফিসারদের জন্য মোটেও ভালো বিষয় নয়।
উইং কমান্ডার নিকিতা পান্ডের আবেদন সংক্রান্ত শুনানিতে বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেছেন, ‘আমাদের বায়ুসেনা বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংগঠন। অফিসাররা প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। আমার মতে তাঁদের সমন্বয়ের মান অতুলনীয়। সেই কারণে আমরা সর্বদা তাঁদের কুর্নিশ জানাই। তাঁরা দেশের বড় সম্পদ। এই অফিসারদের জন্যই আমরা রাতে নিরাপদে ঘুমাতে পারি।’ তবে একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ বলেছে, অবসর গ্রহণের পর থেকেই শর্ট সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) অফিসারদের ‘কঠিন জীবন’ শুরু হয়। বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, অনিশ্চয়তার পরিবেশ সশস্ত্র বাহিনীগুলির জন্য হয়তো ভালো নয়। এবিষয়ে আমরা বিশেষজ্ঞ নই, তাই একেবারে আম আদমি হিসেবে এই পরামর্শ। ন্যূনতম যোগ্যতামানের সঙ্গে কোনও আপস হতে পারে না।
উইং কমান্ডার নিকিতা পান্ডের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। তিনি বলেন, আমার মক্কেল একজন বিশেষজ্ঞ ফাইটার কন্ট্রোলার। তিনি এজকন বিশেষজ্ঞ অফিসার হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন অপারেশন বালাকোট ও সিন্দুরের জন্য মোতায়েন ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কম্যান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেমে (আইএসিসিএস)। উইং কমান্ডার নিকিতা পান্ডে সাড়ে ১৩ বছরের বেশি বাহিনীকে সেবা করেছেন। কিন্তু ২০১৯ সালের একটি নীতির কারণে তিনি সমস্যায় পড়েছেন। সেই নীতির কারণেই তাঁকে পার্মানেন্ট কমিশন বা স্থায়ী চাকরি থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। যদিও দেশের বিশেষজ্ঞ এয়ার ফাইটার কন্ট্রোলারদের মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন এই অফিসার।
কেন্দ্র ও বায়ুসেনার হয়ে সওয়াল করতে আদালতে উপস্থিত হয়েছিলেন অতিরিক্ত সলিসিটার জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটি। তাঁর কাছে সুপ্রিম কোর্ট জানতে চায়, এই অফিসারকে পার্মানেন্ট কমিশনের মঞ্জুরি না দেওয়ার কারণ কী? জবাবে ভাটি জানান, উইং কমান্ডার পান্ডেকে ‘আনফিট’ ঘোষণা করেছিল সিলেকশন বোর্ড। কিন্তু তিনি বাহিনীর কাছে এনিয়ে কোনও আবেদন না জানিয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে পড়েন। দ্বিতীয় সিলেকশন বোর্ডে তাঁর বিষয়টি নিয়ে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। এরপরই সুপ্রিম কোর্ট বলে, পরবর্তী নির্দেশ জারির আগে এই মহিলা অফিসারকে যেন চাকরি থেকে ‘রিলিজ’ করা না হয়। আগামী ৬ আগস্ট পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।