নয়াদিল্লি: ২০২৩ সাল থেকে লাগাতার গোষ্ঠী সংঘর্ষে অশান্ত মণিপুর। তার মধ্যেই ত্রাণ শিবিরগুলিতে আশ্রয় নেওয়া ঘরছাড়া মানুষের মর্মান্তিক পরিণতি নিয়ে এবার সরব সুপ্রিম কোর্ট। রিলিফ ক্যাম্পের মধ্যেই অস্বাভাবিক মৃত্যু ও যৌন নির্যাতনের লাগামছাড়া অভিযোগ ঘিরে বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত রীতিমতো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মণিপুর সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করে সে রাজ্যের মুখ্য সচিবকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, ২৫টি সন্দেহজনক মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করতে হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও মৃত্যুর কারণ সংক্রান্ত নথি জমা করতে হবে। দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কড়া বার্তা, ‘আপনাদের মুখ্য সচিবকে বলুন, তিনি যেন আদালতকে নির্দেশ জারি করতে বাধ্য না করেন। আপনারা কী পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা জানান।’
মণিপুরে ২০২৩ সালের গোষ্ঠী সংঘর্ষ সংক্রান্ত যৌন হিংসার মামলাগুলির তদন্ত ও বিচারের প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শীর্ষ আদালতে পেশ হয়েছিল আবেদন। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং ভি মোহনাকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চে সেই আবেদনগুলি নিয়ে শুনানি হয়। জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি গীতা মিত্তলের নেতৃত্বাধীন ৪ জুলাই কমিটির পেশ করা রিপোর্টের উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, আটটি জেলার ত্রাণ শিবিরগুলিতে ৬৪০ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত করা হয়েছে। ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হলেও, এর মধ্যে মাত্র ২০টি ক্ষেত্রে ময়নাতদন্ত হয়েছে। বহু ক্ষেত্রেই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে মাত্র ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। এসব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট। অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মণিপুর লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটিকে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, সমস্ত সন্দেহজনক মৃত্যুর ক্ষেত্রে এফআইআর নথিভুক্ত করতে হবে এবং মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে যথাযথ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। শুনানির সময় অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটি আদালতকে জানান, আটটি জেলা জুড়ে ৪২টি বিশেষ দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। মোট ৩ হাজার ২০টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। ৩০২টি মামলায় চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। ১ হাজার ৫৮৩টি মামলায় ক্লোজার রিপোর্ট জমা পড়েছে। ৩৩টি মামলায় বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।