নয়াদিল্লি: দীর্ঘ ১৬ বছর একছাদের তলায় বসবাস। তারপরও প্রাক্তন লিভ-ইন সঙ্গীর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ ও যৌননিগ্রহের মামলা করেছিলেন মহিলা। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হল তাঁকে। শুধু তাই নয়, আদালত ফৌজদারি মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে মহিলার প্রাক্তন প্রেমিককে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালে। লিভ-ইন সঙ্গীর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছিলেন ওই মহিলা। পুলিস এই ঘটনায় আদালতে চার্জশিটও পেশ করেছিল। এরপর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার অনুমতি দেয় নিম্ন আদালত। সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিযুক্ত। বুধবার শীর্ষ আদালতের বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহেতার বেঞ্চ জানিয়েছে, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে তাঁরা স্বেচ্ছায় লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন। তাই এখানে জোর খাটিয়ে ধর্ষণ ও প্রতারণার মতো ঘটনা হয়নি। মামলাকারী উচ্চশিক্ষিতা ও স্বনির্ভর। তিনি বিনা প্রতিবাদে এক দশকের বেশি সময় যৌন নির্যাতন সহ্য করে গিয়েছেন, তা বিশ্বাস হয় না। এরপর অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাটি খারিজ করে দেয়।
২০২২ সালে প্রাক্তন প্রেমিকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ করেন মহিলা। অভিযোগকারী মহিলার দাবি, ২০০৬ সালে অভিযুক্ত চুপিসারে তাঁর বাড়িতে ঢুকে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। তারপরও দীর্ঘ ১৬ বছর তাঁদের মধ্যে সেই সম্পর্ক ছিল। তাঁরা একসঙ্গে থাকতেন। ২০২২ সালে তাঁর প্রেমিক অন্য মহিলাকে বিয়ে করার পর দু’জনের সম্পর্কে ভাঙন ধরে। তারপরই ওই যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। নিম্ন আদালতের রায় খারিজ করে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, দু’জনের সম্মতিতেই দীর্ঘ ১৬ বছর একসঙ্গে ছিলেন অভিযুক্ত ও অভিযোগকারিণী। তাই অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার অনুমতি দেওয়া মানে, আইনের অপব্যবহার ছাড়া কিছুই নয়।