নয়াদিল্লি: বক্ষদেশ স্পর্শ বা পাজামার দড়ি ধরে টান দেওয়াটা ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টা নয়! এক নাবালিকাকে যৌন নিপীড়নের মামলায় রায় দিতে গিয়ে সম্প্রতি এই মন্তব্য করে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। বুধবার সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের ওই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করল। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে স্থগিতাদেশ চাপিয়ে শীর্ষ আদালত বলল, এটা সম্পূর্ণ অসংবেশনশীল ও অমানবিক মনোভাবের পরিচয়। সুপ্রিম কোর্টের এই স্থগিতাদেশের অর্থ, এলাহাবাদ হাইকোর্টের গত ১৭ মার্চের ওই বিতর্কিত পর্যবেক্ষণকে কোনও অভিযুক্ত আইনি সুরাহা পেতে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না।
এলাহাবাদ হাইকোর্টের মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। ‘উই দ্য উইমেন অব ইন্ডিয়া’ নামে একটি সংগঠন বিষয়টিকে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার নজরে আনে। এরপরই শীর্ষ আদালত স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে। বিচারপতি বি আর গাভাই এবং আগাস্টিন জর্জ ম্যাসির বেঞ্চ এদিন বলেছে, বিষয়টি খুবই গুরুতর। উল্লেখ্য, হাইকোর্ট তার রায়ে বলেছিল অভিযুক্তরা ধর্ষণের চেষ্টা করেছে, একথা বলা ঠিক হবে না। বরং, হেনস্তা বা জোর করে এক মহিলাকে পোশাক খুলতে বাধ্য করার মতো অপেক্ষাকৃত লঘু ফৌজদারি অপরাধে তাদের তলব করা যেতে পারে। সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত হয়ে এদিন সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, আমি ওই পর্যবেক্ষণ প্রসঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্নমত পোষণ করছি। মেহতার পাশাপাশি এদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল আর বেঙ্কটরমানিও। সরকারপক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি গাভাই বলেন, অত্যন্ত গুরুতর বিষয় এটি। বিচারপতি (এলাহাবাদ হাইকোর্টের) সম্পূর্ণ অসংবেদনশীল ও অমানবিক মনোভাবের পরিচয় দিয়েছেন। একজন বিচারপতি সম্পর্কে এরকম কড়া শব্দের ব্যবহার করার জন্য আমরা দুঃখিত।